রাজধানীর পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যায় অভিযুক্ত ব্যক্তির দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আত্মস্বীকৃত ধর্ষণকারী এবং হত্যাকারীদের বিচার লম্বা হওয়া মানেই হলো এদের সহযোগিতা করা, অন্যায়ের পক্ষে, দুষ্কৃতকারীর পক্ষে যাওয়া।’
আজ সোমবার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ওই শিশুর মা-বাবার সঙ্গে দেখা করে বাইরে এসে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী... (শিশুটির) বাসায় গিয়ে আশ্বস্ত করেছেন, ১৫ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করবেন। আমরা দেখতে চাই, প্রধানমন্ত্রীর কমপক্ষে এই ওয়াদাটা শতভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে। এটি যদি বাস্তবায়ন হয়, সারা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ খুশি হবে, উনার জন্য দোয়া করবে। আমরা উনার জন্য দোয়া করতে চাই; দেখতে চাই, ১৫ দিনে এই বিচার সম্পন্ন হবে।’
বিচার বিভাগ সঠিকভাবে কাজ করলে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে বিচার সম্ভব বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, অন্তত বিচারিক আদালতের কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব। তারপরে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই রায়কে কার্যকর করার জন্য হাইকোর্টে পাঠাতে হবে।
আত্মস্বীকৃত এ ধরনের অপরাধীর পক্ষে কোনো আইনজীবী যেন আদালতে না দাঁড়ায়, সেই অনুরোধ জানান বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, ‘আমি আহ্বান জানাব, এ বিষয়টি নিয়ে কেউ যেন কোনো ধরনের রাজনীতি না করেন। এটা আমাদের ইজ্জত বাঁচানোর লড়াই। যদি বিচার সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন না হয় এবং রায় কার্যকর না করা হয়, এই মেয়ে আমাদের ক্ষমা করবে না। হাশরের দিন আমরা সবাই আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যাব। আমরা সেই আসামি হতে চাই না।’
বিচারের নামে অবিচার, দীর্ঘসূত্রতা এবং বিচারের নামে তামাশা—এসব ঘটনার মূল কারণ উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘এসব কারণে বিচারের প্রতি মানুষের কোনো আস্থা নেই। আমাদের বিচারের প্রতি অনাস্থা তৈরি হয়েছে বিভিন্ন ধরনের হস্তক্ষেপের কারণে। আমরা চাই, এ সংস্কৃতি থেকে বিচার বিভাগ বের হয়ে আসুক। বিচার বিভাগ শতভাগ স্বাধীন হোক। স্বাধীনতা নিয়ে তারা ন্যায়বিচার করুক।’
শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘৭ জুন বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। ওই দিনেই শুধু এই মেয়েটির জন্য না, এ দেশের প্রত্যেকটি মেয়ের বাবা, দাদা ও নানা হয়ে আমি দাঁড়াব, ইনশা আল্লাহ। লড়াই চলবে, এ লড়াইয়ে মানবতার বিজয় হবে।’
ব্রিফিংয়ের সময় শফিকুর রহমানের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, কর্নেল আবদুল বাতেন প্রমুখ।