হোম > রাজনীতি

আন্দোলন করতে পারি, বিদ্রোহ নয়: জামায়াত আমির

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

জামায়াতকে বিএনপি সংবিধানবিরোধী হিসেবে দেখে দাবি করে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘অনেকে বলার চেষ্টা করে, আমরা সংবিধান মানি না। সংবিধান না মানলে এখানে আসলাম কীভাবে? আমরা আইন মান্যকারী নাগরিক। সংবিধান পছন্দ না হলে, আন্দোলন করতে পারি, বিদ্রোহ নয়।’

আজ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন শফিকুর রহমান।

গণভোটে অনুমোদিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী জামায়াত সংবিধান সংস্কারে সোচ্চার থাকলেও দলীয়প্রধানের ভাষণে তা আসেনি। বরং তিনি বিএনপির প্রশ্ন তোলেন, তারা কীভাবে বাহাত্তরের সংবিধান মানে। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘অনেকে বাহাত্তরের সংবিধানের প্রতি সম্মান দেখায়, আমি এটা পারি না। কারণ, এই সংবিধানকে পরিবর্তন করে গেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তাহলে কীভাবে বাহাত্তরের সংবিধান মানি?’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এই সংসদের দিকে সারা বিশ্বে থাকা বাংলাদেশিরা তাকিয়ে রয়েছেন। বিপুল প্রত্যাশা এবং দায়িত্ব বোধ নিয়ে এসেছি সবাই।’

তিস্তা মহাপরিকল্পনার প্রস্তাব

সরকার কৃষকের প্রতি মনোযোগ দিচ্ছে না অভিযোগ করে জামায়াত আমির বলেছেন, কৃষকেরা মধ্যস্বত্বভোগীর যন্ত্রণায় রয়েছে। গ্রামে ১০ টাকায় বিক্রি করা ফসল, ঢাকায় ৪০ টাকায় বিক্রি করা হয়। কৃষক কী ন্যূনতম দামের জন্য সরকার থেকে এটুকু সমর্থন পেতে পারে না?

আওয়ামী লীগ শাসনামলে চীন তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণে অর্থায়নের প্রস্তাব করে। পরে এ প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ দেখায় ভারত। এতে বিলিয়ন ডলারের এ প্রকল্পটি ঝুলে যায়। সরকারের তরফে বলা হয়েছিল, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে উত্তরবঙ্গে খরা এবং বন্যার সমস্যা মিটবে। জামায়াত নির্বাচনী প্রচারে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছে। দলটির অবস্থান হলো, চীনের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, ‘নির্বাচনের প্রচারে তিস্তা এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানকার দুই-আড়াই কোটি মানুষের চেহারার দিকে তাকানো যায় না। শরীরের হাড় বেরিয়ে গেছে। প্রতিবেশী দেশের বাঁধের কারণে তিস্তায় শুধু ধু ধু চর। শীতে তারা পানি পায় না। বর্ষায় বন্যায় ডোবে। নির্বাচনের সময় সারা দেশ ঘোরার সৌভাগ্য হয়েছে। তিস্তাপাড়ের মানুষের মতো দুর্ভাগা মানুষ আর কোথাও পাইনি। তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন চাই।’

ভারতের প্রতি ইঙ্গিত করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘কারও চোখরাঙানিতে ভয় পাই না। সরকার যদি সাহস করে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করে, ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত সমর্থন করবে। অন্তত আমি থাকব।’

পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে প্রশ্ন

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা। ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত সম্প্রতি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, যুদ্ধ একদিন শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু দুঃসময়ে দেশটির পাশে কারা কারা ছিল, তা মনে রাখা হবে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার ঘটনায় জামায়াত আমির ছাড়া আর কেউ শোক প্রকাশ করে ফোন করেননি। ইরানে স্কুলে হামলা করে ১৪২ শিশুকে হত্যায় বাংলাদেশ সরকারের তরফে কেউ শোক জানাতে আসেনি।

এ ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, ‘আমাদের বন্ধুরাষ্ট্র কেন বলে, চরম দুঃখের সময়ে বাংলাদেশকে পাশে পাইনি। কেন এমন হলো?’

আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির সখ্য

সরকারি দলের প্রতি ইঙ্গিত করে বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে বলা হয়, এমন কিছু করবেন না, যাতে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসে। কিন্তু নির্বাচনের আগে ট্রেজারি বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ নেতারা বলেছিলেন, ‘তোমাদের জন্য দুয়ার খোলা। সব মামলা তুলে নেওয়া হবে।’ সেই সমঝোতা কি এখনো আছে?’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘সারা দেশে সীমাহীন চাঁদাবাজি চলছে। সব ব্যবসায়ী চাঁদার শিকার। চাঁদাবাজ কোন দলের, তা বলতে চাই না। চাঁদাবাজ কোনো দলের না। তারা বর্ণচোরা। আধিপত্য বিস্তারের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে অনেক মানুষ মারা গেছে। যে সরকারই ক্ষমতায় আসে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো। কিন্তু ‘‘আগের চেয়ে ভালো’’ যে কী, তা বুঝি না। যেসব জায়গায় আইনশৃঙ্খলা নাজুক, সেখানে যেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নজর দেন।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘শিক্ষাঙ্গনে আর সন্ত্রাস চাই না। যে দলেরই হোক, কেউ কোপের বা গুলি শিকার না হোক।’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত ঠিক করতে হবে। শিক্ষা খাতে গবেষণা থাকতে হবে। কিন্তু গবেষণার নামে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা ফকিরের ভিক্ষা। তবে কৃষি খাতে গবেষকেরা ভালো করেছেন। তাঁদের কৃতিত্ব স্বীকার করতে হবে। আগামী বাজেটে সর্বাধিক গুরুত্ব যেন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে দেওয়া হয়।

সরকারি চাকরির বদলি-পদায়নে দলীয়করণের অভিযোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মেধাভিত্তিক সমাজ হবে; কিন্তু দল থেকে পদ দেওয়া হচ্ছে।

জ্বালানিসংকটের উদাহরণ দিয়ে জামায়াতের আমির বলেছেন, আগে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন ছিল। সংসদে আলোচনা এবং কমিটি গঠনের পর সেই লাইন আর নেই। মানে মানুষ আস্থা পাচ্ছে। বিরোধীদলীয় নেতা নিজ নির্বাচনী এলাকা-১৫ আসনের খাল দখল, ভাঙাচোরা সড়ক, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বেহাল অবস্থা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সমাধান চান।

সরকারি দলের এমপিরা ইতিহাস চর্চায় ব্যস্ত বলে বিদ্রূপ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, ক্ষমতায় যখন থাকেন, তখন নিজেকে সবাই ফেরেশতা মনে করেন। অন্যদের দোষ দেখেন। অন্যের দোষের তালিকা তৈরি করা খুব সহজ। গত ১২ মার্চ থেকে সরকারি দলের বক্তব্যের ৮০ ভাগ হচ্ছে ইতিহাস চর্চা।

বিরোধীদলীয় নেতা আবারও জানিয়েছেন তিনি সাতচল্লিশকে সম্মান করেন। তিনি বলেছেন, ‘১৯৪৭ সালকে আমি সম্মান করি। কারণ, সে সময়েই এই সীমানা, ভূখণ্ড পেয়েছিলাম।’

সাতচল্লিশের প্রতি সম্মানের কারণে সরকারি দলের সমালোচনার বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘ইতিহাস নিয়ে “কোপাকুপির” পর সরকারি দলের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা এসে বলেন, “আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। ” অতীতকে স্মরণ রাখা ভালো। ইতিহাস শিক্ষা ভালো। কিন্তু ইতিহাস নিয়ে পড়ে থাকলে হবে না। তাহলে ইতিহাস তৈরি করতে পারব না।’

আমি একজন শিশু মুক্তিযোদ্ধা: সংসদে তাহের

আপনারা সমন্বয় করে বক্তব্য দিন—জঙ্গিবাদ ইস্যুতে সরকারকে নাহিদ

বর্তমান গভর্নরের বিশেষত্ব হচ্ছে ঋণ পুনঃ তফসিল করা: নাহিদ

গণহত্যার দোসর এখনো দেশের রাষ্ট্রপতি: সংসদে নাহিদ

কাল নয়াপল্টনে শ্রমিক দলের সমাবেশ, বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন: সাত বিভাগে জামায়াতসহ ১১ দলের সমাবেশ কর্মসূচি

হাওরাঞ্চলে ধান কাটায় সংকট, জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান এনসিপির

এনসিপির ‘স্বেচ্ছাসেবক’ ও ‘কৃষক’ সংগঠনের আত্মপ্রকাশ মে মাসেই

৫ আগস্টের পর ঢাবি ক্যাম্পাস ছিল মব সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর: সাহস

১৯৭৮ সালে জন্ম নেওয়া বিএনপি কীভাবে মুক্তিযুদ্ধের দল, প্রশ্ন এ টি এম আজহারের