সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে এর সঙ্গে জড়িত দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
আজ মঙ্গলবার ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ ও এজিএস মুহা. মহিউদ্দীন খান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আক্রমণে বাংলানিউজ ২৪-এর মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক তোফায়েল আহমেদ মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। একই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের নেতা নাইম আহমেদের ওপরও বিনা উসকানিতে পুলিশ আক্রমণ করেছে। ডাকসু এই দুই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
সেখানে আরও বলা হয়, গতকাল সোমবার রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পরিচালিত অভিযানের সময় দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক তোফায়েল আহমেদের ওপর হামলা চালানো হয়, যার ফলে তিনি গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাইম আহমেদকে কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই লাঠিপেটা করা হয়েছে। একজন নিরস্ত্র ব্যক্তিকে এভাবে আক্রমণ করা আইন ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। অভিযান চলাকালে কারও কাছে বেআইনি কোনো কিছু পাওয়া গেলে এবং কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তাঁকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করাই বিধিসম্মত পন্থা। কিন্তু বিনা উসকানিতে বলপ্রয়োগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী ও দায়িত্ব পালনরত একজন সাংবাদিকের ওপর এ ধরনের হামলা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক এবং স্বাধীন গণমাধ্যম ও নাগরিক অধিকার পরিপন্থী উল্লেখ করে ডাকসুর নেতারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে সংযম, পেশাদারত্ব ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ প্রত্যাশিত। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর আক্রমণ কোনো সভ্য রাষ্ট্রব্যবস্থায় কাম্য নয়। পুলিশ বাহিনীকে তাদের দায়িত্ব ও সীমা সম্পর্কে সচেতন থেকে কাজ করতে হবে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত দায়ী পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়ে ডাকসু নেতৃবৃন্দ বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ যেসব এলাকায় নিয়মিত মাদকবিরোধী বা অন্যান্য অভিযান পরিচালিত হয় সেখানে যেন কোনো নিরীহ শিক্ষার্থী, সাংবাদিক বা সাধারণ মানুষ হয়রানি ও হেনস্তার শিকার না হন—সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশনা ও নজরদারির আহ্বান জানানো হয়।