হোম > রাজনীতি

পুরোনো অস্ত্রেই আক্রমণে সরকারি ও বিরোধী দল

রেজা করিম ও তানিম আহমেদ, ঢাকা 

ফাইল ছবি

জুলাই অভ্যুত্থানের পর রাজনীতিতে নতুন ধারা তৈরির প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু দেশের প্রধান দুই দল যেন পুরোনো চর্চা থেকে বেরই হতে পারছে না। এখনো তারা পরস্পরের সমালোচনা বা আক্রমণের প্রয়োজন হলেই টেনে আনছে অতীত। জাতীয় সংসদের বিতর্ক কিংবা রাজপথের কর্মসূচি সবখানেই দলটির নেতাদের মুখে ঘুরেফিরে আসছে পরস্পরের অতীত কর্মকাণ্ড।

যদিও এই পরিস্থিতিকে দেশের রাজনৈতিক চর্চার ধারাবাহিকতা হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকেরা। তবে তাঁরা মনে করছেন, দুই দল জনসমক্ষে একে অপরকে আক্রমণ করলেও বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাঁদের মধ্যে একধরনের কৌশলগত মনস্তাত্ত্বিক ঐক্য ও সহাবস্থান রয়েছে। নানাবিধ সমীকরণের কারণে দুই পক্ষের এই কথার যুদ্ধ ও সাময়িক দূরত্ব শেষ পর্যন্ত একটি সুস্থ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে মনে করেন তাঁরা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, জাতীয় রাজনীতির বৃহত্তর স্বার্থে এবং দীর্ঘমেয়াদি অস্বস্তি দূর করার জন্য একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট প্রতি-উত্তর বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য থাকা উচিত।

নতুন সরকারের আমলে জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ হতে চলেছে। চলমান অধিবেশনটি মূলত বাজেট অধিবেশন। কিন্তু প্রথম অধিবেশনের মতো এই অধিবেশনেও সরকারি দল বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী পরস্পরের অতীত নিয়ে টানাহেঁচড়ায় ব্যস্ত ছিল।

চলতি অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেটে ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিএনপির মহাসচিব স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জামায়াতের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘একাত্তর সালের ভূমিকার জন্য আপনারা একবারও ক্ষমা প্রার্থনা করলেন না। জাতির সামনে আপনাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল। এটা করলে আজকে সমস্যাগুলো হতো না। আপনারা সেটা করেননি।’

সংসদে সরকারি দলের আরও অনেক নেতা একাধিক দিন জামায়াতকে একাত্তর নিয়ে খোঁচা দিয়েছেন। এ কারণে জামায়াত সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউটও করেছে।

মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বিএনপিকেই বরং জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে গত মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ‘যে ভাষায় বাইরে এবং পার্লামেন্টে আপনারা কথা বলেন, প্রশ্ন করেন, আমাদেরও প্রশ্ন আছে। সেই জবাবটা তো বিএনপিকে দিতে হবে। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর, এই স্বাধীন বাংলাদেশে অন্তত ১৪-১৫ জন মন্ত্রী, এমপি, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী করেছিল, যাঁরা পাকিস্তানের সময়ে পাকিস্তানের অখণ্ডতার পক্ষে ভূমিকা রেখেছিলেন, বাংলাদেশ তাঁরা চাননি।’

বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী পরস্পরের পুরোনো মিত্র। সরকারে এবং রাজপথে তারা একসঙ্গে ছিল আড়াই দশকের বেশি সময় ধরে। জুলাই আন্দোলনের পর পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে তারাই এখন পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী। অতীত নিয়ে তাদের মধ্যে আবার সেই পুরোনো ধাঁচের টানাটানি ভবিষ্যৎ রাজনীতি এবং একটি কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন, চলছে আলোচনা।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে একাত্তর বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে সরকারের পক্ষ থেকে আসা ঐকমত্যের বার্তাকে সামনে এনেছেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। সংসদে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেছেন, ‘‘আমাদের সময়ের বিশাল অংশ অতীত নিয়ে আলোচনা করেছি। এটা আমরা চাই না। সামনে এগোতে চাই।’’ আমিও চাই, উনিও (প্রধানমন্ত্রী) চান। মাঝখানে কে কী বলল, তার তেমন গুরুত্ব নেই।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনও যেন জামায়াতের আমিরের সুরে কথা বললেন। জামায়াতের একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা ভালো আছি, সরকার ও বিরোধী দল। আলোচনা-সমালোচনা হবে। কিন্তু আমরা ভালো আছি।’

বিএনপির অনেক নেতাই মনে করেন, জামায়াতের পক্ষ থেকে অদূর ভবিষ্যতে ক্ষমা চাওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। তবে এই বিতর্কের জেরে কোনো ধরনের সংঘাত বা সহিংসতায় না জড়িয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পক্ষেই মত দিয়েছেন তাঁরা।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স এ বিষয়ে স্পষ্ট করে বলেন, ‘ক্ষমা চাওয়া, না চাওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক এবং এটি একটি ভিন্ন বিষয়। আমরা সবাই মিলেই দেশটাকে গড়তে চাই। কিন্তু আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক যেসব বিষয় নিয়ে দূরত্ব, বিভাজন বা অস্বস্তি আছে, তা যার যার অবস্থান থেকে পরিষ্কার করা গেলে কোনো সমস্যা থাকে না। জামায়াত এ বিষয়টি যত দ্রুত বুঝবে, ততই তাদের জন্য মঙ্গল।’

জামায়াতের দায়িত্বশীল একাধিক নেতা বলেছেন, রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন দল হলে বক্তব্য, দাবিদাওয়া, দৃষ্টিভঙ্গি ও দর্শনে ভিন্নতা থাকবেই। কিন্তু মূল বিষয় হলো, এই দূরত্বটা সহিংস পর্যায়ে যাচ্ছে কি না। দ্বিমত ও বিরোধ এক জিনিস নয়। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে দ্বিমত থাকবেই, তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন এই বিরোধ কখনো সংঘাতে রূপ না নেয়।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ তাই সংসদীয় গণতন্ত্রের কাঠামোর ওপর জোর দিচ্ছেন। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সরকারি ও বিরোধী দল সংসদের ভেতরে সংবিধান ও কার্যপ্রণালি বিধি মেনেই সংসদকে কার্যকর রাখবে, জনগণের স্বার্থে কথা বলবে এবং দেশের উন্নয়নের স্বার্থে কাজ করবে। এটাই উভয় পক্ষের মূল কাজ।’

তবে সরকারের সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, সরকার সংসদে অনেক সময় যৌক্তিক বিষয় মানতে চায় না এবং দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়। অতীতে যা হয়েছে, এখনো তা-ই হচ্ছে। এখানে সরকার নিজে থেকে সংশোধন না হলে আমাদের জনগণের কাছে, অর্থাৎ রাজপথে আসতেই হবে।’

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে আসামি হচ্ছেন ইনু

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মরণে ছাত্রদলের মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা

আইআরআইয়ের আমন্ত্রণে তাইওয়ান যাচ্ছেন জারা, আলাউদ্দীন ও মিলি

তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করব, কেউ নাখোশ হলে রাজশাহীর আম পাঠাব: শফিকুর রহমান

গণভোটের রায় না মানায় রাজপথে বিরোধী দল: জামায়াত আমির

খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরান যাচ্ছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই জাতীয় জাদুঘর খুলে না দিলে জনগণই খুলে নেবে: নাহিদ

এখনো জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ পাইনি: নাহিদ ইসলাম

হাসানুল হক ইনুর সাজা ন্যায়বিচারের মানদণ্ডে অপর্যাপ্ত: এনসিপি

স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার দায়ে বিএনপিরই ক্ষমা চাওয়া উচিত: গোলাম পরওয়ার