জাতীয় পার্টি (জাপা), কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল এবং জাতীয় পার্টির একাধিক অংশের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের (এনডিএফ) প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) স্মারকলিপি দিয়েছে ‘জুলাই ঐক্য’ নামের একটি সংগঠন। আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজের কাছে এ স্মারকলিপি জমা দেন জুলাই ঐক্যের প্লাবন তারেকসহ পাঁচজনের প্রতিনিধিদল।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে ১৪০০-এর অধিক ছাত্র-জনতাকে নির্মূলের উদ্দেশ্যে যে গণহত্যা চালিয়েছিল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সরকার। ৩৬ জুলাই (৫ আগস্ট ২০২৪) বাংলাদেশ যে ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি পেয়েছিল তার আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশ। গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা এখনো বিচারের জন্য রাস্তায়। কিন্তু আমরা দেখছি, এই গণহত্যার সঙ্গে জড়িত রাজনীতি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী, ডামি প্রার্থী ও জাতীয় পার্টিসহ এনডিএফ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে।’
স্মারকলিপিতে বলা আছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ২৪৪ আসনে প্রার্থী দিয়েছে গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (জাপা)। এই জি এম কাদেরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদ কায়েমে সহযোগিতা করা হয়। গত ১৬ বছর জাতীয় পার্টিসহ আওয়ামী লীগের সহযোগীরা বাংলাদেশে যত গুম, খুন, গণহত্যা ঘটিয়েছে, প্রকাশ্যে তার পক্ষে সহযোগিতা করেছে ১৪ দল। ভারতীয় প্রেসক্রিপশনে বাংলাদেশবিরোধী সব ধরনের কাজে লিপ্ত ছিল ১৪ দল। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের স্পিরিট ধারণকারী জোট ‘জুলাই ঐক্য’র দাবি অবিলম্বে গণহত্যাকারীদের মনোনয়ন বাতিল করতে হবে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা আছে, ‘বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে “ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং”-এর মাধ্যমে কোনো একটি দলকে ক্ষমতায় আনতে চায় রাষ্ট্র। এ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখে সব রাজনৈতিক দলের যেন নির্বাচন কমিশনের ওপর বিশ্বাস থাকে সেই আস্থা দ্রুত সময়ের মধ্যে তৈরি করার দাবি জানাচ্ছি।’
‘২০০৫ সালে বিপুলসংখ্যক নির্বাচন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল। পরে তাদের অনেকেই চাকরিচ্যুত হয়েছিল অযোগ্যতার কারণে। সেই কর্মকর্তাদের অনেকে আবার ফিরে এসেছে। তাদের অনেকেই মাঠপর্যায়ের দায়িত্বে আছে। সে সময় যেসব কর্মকর্তা নিয়োগ পেয়েছিলেন, তাঁরাই সারা দেশের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় আমরা দেখেছি জেলা প্রশাসকদের ওপর এক কর্মকর্তা ছড়ি ঘুরিয়েছে, যে কারণে অনেক প্রার্থীর মনোনয়ন বিনা কারণে বাতিল হয়েছে। পরে তাঁদের অনেকেই আবার প্রার্থিতা ফিরেও পেয়েছেন। সেই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ‘নির্বাচনের নিরাপত্তায় বডি-ওর্ন ক্যামেরা না থাকলে নির্বাচনের দিন কোনো প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে তার দায়ভার নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। তফসিল ঘোষণার পর একের পর এক লাশ রাস্তায় পড়ছে। শরিফ ওসমান হাদির মতো প্রার্থীকে খুন করা হয়েছে। খুনিকে গ্রেপ্তারে এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার দৃশ্যমান কার্যক্রম লক্ষ করা যায়নি। দ্রুত সময়ের মধ্যে অবৈধ অস্ত্র (দেশি অস্ত্রসহ) উদ্ধারের নির্বাচন কমিশনকে আরও কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
এর আগে জুলাই ঐক্যের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সামনে পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। পরে একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন ভবনে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেয়। প্রতিনিধিদলে ছিলেন জুলাই ঐক্যের সংগঠক প্লাবন তারেক, মোসাদ্দেক আলী ইবনে মুহাম্মদ, ইসরাফিল ফরাজী, মুন্সি বুরহান মাহমুদ ও ওয়ালীওল্লাহ।