ভিন্ন মত, ভিন্ন আদর্শ প্রকাশ করার স্বাধীনতা যেমন থাকবে, তেমনি শুধু বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিরা নয়, সমাজের পিছিয়ে পড়া সব মানুষের কাজ কারার সুযোগ থাকবে এমন বাংলাদেশের প্রত্যাশা করেন জাইমা রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ যেন সবার জন্য হয়। এখানে যেন সবার সমান অধিকার থাকে, কেউ বঞ্চিত না হোন।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর গুলশান লেক পার্কে শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের সঙ্গে অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ নিয়ে ভাবনা জানাতে গিয়ে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান।
শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে বিএনপি। এ সভায় কোনো মঞ্চ ছিল না। ইশারা দোভাষীর সহায়তায় কর্মক্ষেত্রে নিজেদের সংকটের কথাও তুলে ধরেন বাক্-শ্রবণ প্রতিবন্ধীরা।
জাইমা রহমান উপস্থিত প্রতিবন্ধীদের যানবাহন, সড়কে চলাচলে সমস্যার পাশাপাশি সর্বজনীন শিক্ষা ব্যবস্থার অপ্রতুলতা ও বেকারত্বসহ নানা সমস্যার কথা শোনেন।
এ সময় প্রতিবন্ধীদের উদ্দেশে জাইমা রহমান বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা মানে শুধু একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর কথা ভাবা নয়, বরং পুরো সমাজের জন্য সমান ও সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।
জাইমা বলেন, ‘নানান সীমাবদ্ধতা ও কষ্টের মধ্যেও আপনারা যে সক্ষমতা ও সাফল্যের পরিচয় দিয়েছেন, তা দেশ ও জাতির জন্য গর্বের। আমরা চাই আপনারা আরও এগিয়ে আসুন, নেতৃত্ব দিন। আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করতে চাই।’ প্রতিবন্ধীদের মেধা বিকাশের সুযোগ করে দেওয়া হলে তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় প্রতিবন্ধীরা জানান, সমাজে প্রতিবন্ধীদের স্বাভাবিকভাবে দেখা হয় না। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সুযোগ দেওয়া হয় না। প্রতিবন্ধীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য সরকারের অনেক প্রতিষ্ঠান থাকলেও সেখানে যথাযথভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় না। কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। আবার যেগুলো আছে, সেগুলোতে প্রশিক্ষণ নিতে গেলে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়। প্রতিবন্ধীদের সহযোগিতা করলে তারাও রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে।
বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত আসন বরাদ্দ রাখার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের প্রতিটি সেক্টরে প্রতিবন্ধীদের প্রতিনিধিত্ব রাখার দাবিও জানান।