বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমি বিভিন্ন জায়গায় শুনতে পাচ্ছি, যাঁরা আমাদের মতো মজলুম ছিলেন, তাঁরা এখন ভিন্ন ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। মানুষকে কষ্ট দিচ্ছেন, চাঁদাবাজি করছেন, দুর্নীতি করছেন, মামলা-বাণিজ্য, দখল-বাণিজ্য করছেন। শুধু তা-ই নয়, এখন নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য নির্বাচনী এজেন্টদের ঘরে ঘরে গিয়ে নাকি হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’
আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে টাঙ্গাইলে ১১ দলীয় ঐক্য জোট আয়োজিত নির্বাচনী সভায় তিনি এসব অভিযোগের কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমার ভোট আমি দিব, তোমারটাও আমি দিব—এই দিন ভুলে যান। সেদিনের কবর রচনা হয়ে গেছে। এখন আর নাই।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা সিজনাল পলিটিশিয়ান না। আমরা বসন্তের কোকিল না। যখন নির্বাচন আসবে, তখন এসে নতুন রং ধারণ করে, সুন্দর সুন্দর কথা নিয়ে আমরা হাজির হব না। আপনারা সাক্ষী, সাড়ে ১৫ বছর আমাদের ওপর এত জুলুম হওয়ার পরেও আমরা এক দিনের জন্য জনগণকে ছেড়ে কোথাও যাইনি। এই মাটি কামড় দিয়েই আমরা ছিলাম। আল্লাহ আমাদের এখানে রেখেছিলেন। দফায় দফায় জেলে গিয়েছি, ঘরবাড়িছাড়া হয়েছি, অফিসে ঢুকতে পারি নাই। কিন্তু বাংলাদেশে ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ! এখনো আল্লাহ রেখেছেন। ইনশা আল্লাহ, ভবিষ্যতে সুদিন-দুর্দিন কী আসবে, আল্লাহ ভালো জানেন।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘কথা দিচ্ছি, বাংলাদেশ ছেড়ে কোথাও যাব না, ইনশা আল্লাহ। আছি, থাকব। আপনাদের সুখেও থাকব, ইনশা আল্লাহ দুঃখেও থাকব। আমরা এখন একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি। এই স্বপ্ন কার? এটা আমার না। এটা জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের। তারা যে দেশটা দেখতে চেয়েছিল, আমরা সেই দেশটা গড়ার জন্য শপথ নিয়েছি। আপনারা আমাদের সঙ্গে ইনশা আল্লাহ থাকবেন।’
জামায়াতের এই নির্বাচনী সভায় যোগ দিতে সকাল থেকেই দলীয় নেতা-কর্মী-সমর্থকেরা সভাস্থলে আসতে শুরু করেন। দুপুরের মধ্যে সভাস্থল ও আশপাশের এলাকা মানুষে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। আশপাশের রাস্তাও জনসভায় আগত মানুষে ভরে যায়।