হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

‘গিফট বক্স’

সম্পাদকীয়

কেউ যে ঘুষ খায় না—এটাই যে বিস্ময়ের ব্যাপার হতে পারে, সেটা দেখা গেল রংপুরের এক ঘটনায়। কাগজে মোড়ানো এক গিফট বক্স নিয়ে যে ঘটনাটি ঘটে গেল, তা কাল্পনিক নাটকের ঘটনাকে ছাপিয়ে যায়। শিক্ষা কর্মকর্তার হাতে তুলে দেওয়ার জন্য এক ব্যক্তি গিফট বক্সের ভেতর ৭ লাখ টাকা নিয়ে আসেন। লোকটি ভাবতেই পারেননি, এই শিক্ষা কর্মকর্তা ঘুষ খান না। ঘুষ না খাওয়ার ব্যাপারটি এতটাই অভিনব ঠেকেছে যে সেটা মানতে কষ্ট হচ্ছিল সে ব্যক্তির। ফলে তিনি বলতে বাধ্য হয়েছেন, ‘ম্যাডাম ঘুষ খায় না, সেটা আমি জানি না, এটা আমারই দোষ।’ আহা! কী সরল স্বীকারোক্তি!

ঘটনাটা যদি অন্য এক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা যায়, তাহলে কিন্তু আরও বড় বাস্তব সত্য বেরিয়ে আসবে। সরকারি অফিসে ঘুষ দিতে হবে না—এ রকম চিন্তা করা যেকোনো ভুক্তভোগীর জন্য কষ্টকর। এমপিও সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন এই ব্যক্তি। একজন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারীর এমপিওর সুপারিশ করতে গিয়েছিলেন তিনি। হিসাবটা করাই ছিল। একজন শিক্ষকের জন্য ৫ লাখ ও তিনজন কর্মচারীর এমপিওভুক্তির সুপারিশের জন্য ৩ লাখ টাকা তিনি এনেছিলেন। তবে গিফটের বক্সে পাওয়া গেছে ৭ লাখ টাকা। যদিও তিনি যে মেসেজটি দেখিয়েছেন, তাতে টাকার হিসাব ছিল ৮ লাখের।

বেরসিক শিক্ষা আঞ্চলিক উপপরিচালক ঘুষ না খেয়ে পুলিশে খবর দিয়ে পুরো ঘটনাটাকেই ‘ট্র্যাজেডি’তে পরিণত করেছেন। ভুক্তভোগীমাত্রই জানেন, সরকারি অফিসে কোনো কাজ উদ্ধার করতে হলে কতটা হ্যাঁপা পোহাতে হয়। সবকিছু বদলে দেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে যাঁরা ক্ষমতায় বিচরণ করলেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। অনেকেরই থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ছে। উচ্চপর্যায়ের লোকেরাও এমন সব ভাষা ব্যবহার করছেন, যা শিষ্টাচার পরিপন্থী। এমনকি খুবই সাম্প্রতিককালে একজন দায়িত্বশীল মানুষ ‘প্যান্ট’, ‘জাঙ্গিয়া’ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করে যা বোঝাতে চেয়েছেন, তা মোটেই একজন শিক্ষিত মানুষের ভাষা হতে পারে না। বিষয়টি ঘুষ-দুর্নীতিসংক্রান্ত বলে এখানে বলে রাখা হলো।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ঘুষ দিয়ে কাজ আদায় করার বহু গল্প বাতাসে ভাসে। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার সময় কতগুলো স্যান্ডেলের শুকতলি খোয়াতে হয়, সে রকম ঘটনা বহু শিক্ষকের জন্যই দুঃস্বপ্ন হয়ে আছে। এ রকম অবস্থার পরিবর্তন আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে আসা এখনই সম্ভব নয়। আমরা বুঝতে পারি, এমপিওভুক্তির জন্য কতটা মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালান শিক্ষক ও কর্মচারীরা। তাঁরা সরকার মহোদয়কে সদয় হয়ে উঠবার জন্য এই ‘স্পিড মানি’ ব্যবহারে কেন উৎসাহী হয়ে উঠছেন, সেটা কি খতিয়ে দেখতে হবে না?

ঘুষের টাকাসহ এক ব্যক্তি ধরা পড়েছেন বলে মনে করার কোনো কারণ নেই যে সব সরকারি কর্মকর্তা সাধু বনে গেছেন। রংপুরের ঘটনাটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা কি না, তা নিয়ে বিস্ময়ের ঘোর কাটে না আমাদের।

নতুন সরকারকে অভিনন্দন

শুরু হয়ে গেছে

সহিংসতা

মাত্র সাত

সুষ্ঠু নির্বাচনের সংস্কৃতি

নির্বাচন-পরবর্তী প্রত্যাশা

আজ ভোট উৎসব

নিছক ছোট একটি ঘটনা

নির্যাতন

পর্যটন বনাম জীবিকা