হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

উন্নয়ন যখন ভোগান্তির নাম

সম্পাদকীয়

একটি নবনির্মিত সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে পড়ার সংবাদ আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। যশোরের মনিরামপুরে নির্মাণকাজ শেষ না হতেই ঝাঁপা বাঁওড়ের নবনির্মিত সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে গেছে।

এত উন্নয়নের পরেও মাঝেমধ্যে কিছু সংবাদ আমাদের ধন্দে ফেলে দেয়। ঘটনাগুলো মেনে নেওয়ার মতো মনে হয় না। আবার মেনে না নিয়েও কোনো উপায় থাকে না। এ রকম বাস্তবতায় বলতে বাধ্য হতে হয়, অদ্ভুত এ দেশের অদ্ভুত সব কাণ্ডকারখানা! ১ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি প্রকল্পের সুফল ভোগ করার আগেই যদি তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে, তবে সেই উন্নয়নের সার্থকতা কোথায়?

জানা যায়, ১৩ দশমিক ২০ মিটার দীর্ঘ সেতুর দুই পাশে ৫২৩ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণে খরচ হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। অথচ ভারী কোনো বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াই প্রায় ১০০ মিটার রাস্তা বাঁওড়ে ধসে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এখানে কারিগরি ত্রুটি এবং তদারকির চরম গাফিলতি ছিল। মাটিকে থিতু হওয়ার সুযোগ না দিয়ে তড়িঘড়ি করে ইটের সলিং বিছিয়ে রাস্তা চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। প্রকৌশলবিদ্যার সাধারণ জ্ঞান বলে, বালু বা উপযুক্ত ভরাট সামগ্রী ব্যবহার না করে কেবল আলগা মাটির ওপর সলিং করলে তা ধসে পড়ার ঝুঁকি থাকে। এখানেও সম্ভবত সেই একই ‘দায়সারা’ পদ্ধতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।

ঠিকাদার বলছেন তিনি ধসে যাওয়ার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না, আর উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তরের সহকারী প্রকৌশলীও কারণ নির্ণয় করতে পারেননি। যখন একটি সরকারি প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার মাসখানেকের মধ্যে তা ভেঙে পড়ে, তখন ‘কারণ খুঁজে না পাওয়া’ কি দায়িত্ব এড়ানোর কৌশল নয়? প্রশ্ন হলো, কাজ চলাকালীন উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তরের তদারকি কোথায় ছিল? সরকারি দপ্তরের প্রকৌশলীরা যদি নিয়মিত নির্মাণকাজটি পরিদর্শন করতেন, তবে মাটির স্তরের দুর্বলতা তাঁদের চোখে পড়ত।

লোকসান দিয়ে কাজ করার দোহাই দিয়ে কাজের মান খারাপ করা সরকারি কাজের একটি সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। কাজ শেষে বিল তুলে নেওয়ার পর দায়বদ্ধতা শেষ হয়ে যায়—এমন মানসিকতাই বারবার এই ধরনের অপচয়কে উসকে দিচ্ছে।

মনিরামপুরের ঝাঁপা ও কোমলপুর গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার ফসল ছিল এই সেতু। এখন সেই সেতুই তাদের জন্য নতুন ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেবল কাজ করলেই দায় শেষ হয়ে যায় না। কেন এ ধরনের কাজে এমন কাণ্ড ঘটে, তা খতিয়ে দেখতে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। যদি ঠিকাদার বা তদারককারী প্রকৌশলীর কোনো অবহেলা প্রমাণিত হয়, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

জনগণের করের টাকার এমন অপচয় কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। উন্নয়ন যেন কেবল কাগজ-কলমে বা বিল উত্তোলনের উৎস না হয়ে বরং তা যেন টেকসই এবং জনবান্ধব হয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

জুলুম

মহান শহীদ দিবস

বিদ্যুতে লুটপাটের দায় কার

‘গিফট বক্স’

নতুন সরকারকে অভিনন্দন

শুরু হয়ে গেছে

সহিংসতা

মাত্র সাত

সুষ্ঠু নির্বাচনের সংস্কৃতি

নির্বাচন-পরবর্তী প্রত্যাশা