হোম > মতামত > উপসম্পাদকীয়

সাম্রাজ্যবাদী থাবায় বিপন্ন ছোট রাষ্ট্র

দক্ষিণ এশিয়াও এখন ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার অন্যতম ক্ষেত্র। ভারত ও চীনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমান্ত ছাড়াও সমুদ্রপথ, বন্দর, জ্বালানি রুট, আঞ্চলিক প্রভাবসহ স্ট্র্যাটেজিক (সার্বিক দীর্ঘমেয়াদি) বিষয়ে। বঙ্গোপসাগর এমন এক স্ট্র্যাটেজিক সমুদ্রপথ, যার নির্ভরশীল মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরিবহন, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্য। বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী আমাদের এই দেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর, সম্ভাব্য গভীর সমুদ্রবন্দর—এসব কেবল উন্নয়ন প্রকল্প নয়; এগুলো আঞ্চলিক শক্তির দৃষ্টিতে স্ট্র্যাটেজিক প্রবেশদ্বার।

আজাদুর রহমান চন্দন

ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর কথাবার্তা থেকে এটা স্পষ্ট যে তাঁরা ইরানে শাসক বদলই চাইছেন। ছবি: এএফপি

আলোচনা চলা অবস্থায় সাফল্যের আভাসের মধ্যে কোনো উসকানি ছাড়াই ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা সামরিক আগ্রাসনের ৯ দিন পেরিয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রথম দিনের বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, তাঁর নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলী শামখানি, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল আবদুর রহিম মৌসাভি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ এবং শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে। অসম এই যুদ্ধে ইরানও জবাব দেওয়ার জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে অশান্ত হয়ে পড়েছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য। কারণ ইরান পাল্টা আঘাত হানছে সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটি-দূতাবাসসহ বিভিন্ন স্থাপনায়। যুদ্ধের অষ্টম দিন গত শনিবার ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে বড় আকারের ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান।

ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে তারা। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, তাদের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানযুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থা এবং আগাম সতর্কতা ও অগ্নিনিয়ন্ত্রণ রাডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আল জাজিরা জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এ ছাড়া আল-মিনহাদ ও আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। হরমুজ প্রণালিতে ‘প্রিমা’ নামের একটি তেলবাহী জাহাজেও তারা ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মার্কিন সেনারা অবস্থান করছে এমন একটি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। একটি বড় তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করেও ড্রোন হামলার চেষ্টা চালায়।

প্রতিবেশী তো দূরের কথা, বিশ্বের কোনো রাষ্ট্র এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষে সক্রিয় সমর্থন না দিলেও খোদ যুক্তরাষ্ট্রসহ দেশে দেশে জনগণ এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। রাশিয়া ও চীন কৌশলে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি দিয়ে সাহায্য করছে ইরানকে। বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষের সমর্থন যে ইরানের দিকে, তা বোঝা যায় সহজেই। এই সমর্থনের প্রধান কারণ ধর্মীয় অনুভূতি। এর বাইরে বামপন্থী ও প্রগতিশীল জনগোষ্ঠী রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণেই ইরানে আগ্রাসনের প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছে। ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী ও শাসনব্যবস্থার বিরোধী হওয়া সত্ত্বেও তারা নৈতিক কারণে মার্কিন আগ্রাসনের বিপক্ষে সোচ্চার। এ নিয়ে কেউ কেউ তাদের সমালোচনাও করছে। সমালোচকদের দাবি, আগ্রাসনের বিরোধিতা করায় পক্ষান্তরে ইরানের কট্টরপন্থী শাসকেরাই প্রশ্রয় বা সমর্থন পাচ্ছে। ওই সমালোচকেরা অনুধাবন করছেন না যে, এই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সোচ্চার না হলে ছোট ও স্বল্প শক্তির রাষ্ট্র হিসেবে ভবিষ্যতে আমাদের নিজেদের সার্বভৌমত্বও বিপন্ন হতে পারে।

সবারই জানা, পুঁজিবাদ বিকাশের একপর্যায়ে সাম্রাজ্যবাদে রূপ নেয়। তখন বৃহৎ পুঁজিবাদী দেশগুলো বিভিন্ন দুর্বল রাষ্ট্র দখল করে সেখানে নিজেদের উপনিবেশ স্থাপন করেছিল। আমরা এই উপমহাদেশের জনগণও প্রায় ২০০ বছর কাটিয়েছি ব্রিটিশ শাসনের অধীনে। ১৯১৭ সালে রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পর দেশে দেশে দানা বাঁধে জাতীয় মুক্তিসংগ্রাম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয়ের অভিঘাতে জাতীয় মুক্তিসংগ্রাম বেগবান হওয়ায় উপনিবেশগুলো স্বাধীন হতে শুরু করে। উপনিবেশগুলো হাতছাড়া হলেও দমে যায়নি উন্নত পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলো। পরিণামে জন্ম নেয় নয়া উপনিবেশবাদ।

অর্থাৎ, সরাসরি উপনিবেশ স্থাপনের বদলে ‘নিয়ন্ত্রিত অস্থিতিশীলতা’ সৃষ্টি করে তুলনামূলকভাবে দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর রাজনীতি, অর্থনীতি ও সামরিক নীতি বদলে দেওয়া তথা রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ও কাঠামোকে প্রভাবাধীন করা। ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া, ভেনেজুয়েলা, ইরান—প্রতিটি দেশের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, প্রথমে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে অকার্যকর বা অগ্রহণযোগ্য প্রমাণ করা হয়; এরপর অর্থনৈতিক অবরোধ, তথ্যযুদ্ধ এবং সবশেষে সামরিক হস্তক্ষেপ কিংবা অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে উসকে দিয়ে রেজিম চেঞ্জ তথা শাসক পরিবর্তন ঘটানো হয়। এটি করা হয় বৈশ্বিক পুঁজির সম্প্রসারণ ও সামরিকশিল্প জোট বা সমরাস্ত্র তৈরির গুটিকয়েক বহুজাতিক করপোরেশনের স্বার্থরক্ষার জন্য।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় মধ্যস্থতা করছিলেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বুসাইদি। তিনি গত ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত। ইরান কথা দিয়েছে তারা ‘কখনো’ পরমাণু বোমা তৈরির চেষ্টা করবে না। এর ঠিক পরদিনই ইরানে বিমান হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তেল আবিব দাবি করে, এই হামলা ‘আগাম প্রতিরোধমূলক’ ব্যবস্থা, যাতে রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের ‘অস্তিত্ব বিপন্ন না হয়ে পড়ে’। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানিদের উদ্দেশে খোলামেলা আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘নিজেদের দেশের ক্ষমতা দখল করুন’। তিনি আরও বলেন, ‘কয়েক প্রজন্মের মধ্যে এটা আপনাদের কাছে শাসক বদলানোর একমাত্র সুযোগ।’ ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর কথাবার্তা থেকে এটা স্পষ্ট, তারা ইরানে শাসক বদলই চাইছেন।

বিশ্ব রাজনীতিতে বর্তমানে সুস্পষ্ট প্রবণতা হলো, বাংলাদেশের মতো দেশের অস্তিত্ব রক্ষা করতে পারে এমন কোনো কার্যকর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নেই। আন্তর্জাতিক আইন যা আছে, তা শক্তিধর রাষ্ট্রের করায়ত্ত। এ অবস্থায় রাষ্ট্রীয় হত্যা-সন্ত্রাসকে স্বাভাবিক করে তোলা, সামরিক আগ্রাসনকে ‘কৌশলগত প্রয়োজন’ হিসেবে বৈধতা দেওয়া এবং অন্য রাষ্ট্রের রেজিম চেঞ্জকে বৈশ্বিক শাসননীতির অংশ বানানো মামুলি ব্যাপার হয়ে উঠেছে। এতকাল শাসক বদলানোর কাজটি নেপথ্যে নানা কারসাজির মাধ্যমে সারলেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই জমানায় আর কোনো রাখঢাক থাকছে না। সাম্রাজ্যবাদ নিজেদের নির্লজ্জ রকমের আগ্রাসী চরিত্রটি প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে। এটিকে কেউ কেউ বলছেন সাম্রাজ্যবাদের ‘গুন্ডাবাজি বা দস্যুতার পর্ব’। বৈধভাবে নির্বাচিত ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপ্রধান ও তাঁর স্ত্রীকে যেভাবে সামরিক অভিযান চালিয়ে অপহরণ করার পর হাতকড়া পরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে বিশ্বাসযোগ্যহীন মনগড়া অভিযোগে বিচারের জন্য হাজির করেছে এবং অনুগত পুতুল সরকার অধিষ্ঠিত না করা পর্যন্ত সরাসরি মার্কিন উপনিবেশ হিসেবে সেই দেশ পরিচালনা করার কথা বলেছে, সেটা আসলে ‘গুন্ডাবাজির পর্বের’ নতুন সংস্করণ। গুন্ডাবাজির এই পর্বে ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্র আবির্ভূত হয়েছে গ্যাংস্টার হিসেবে।

সাম্প্রতিক সময়ে যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কথা চলছিল, তখন ইসরায়েল বারবার দাবি করছিল যে দুই পক্ষের চুক্তির আওতায় ইরানের মিসাইল কর্মসূচিকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এ ছাড়া ওই অঞ্চলের নন-স্টেট মিলিশিয়াগুলোকে ইরান যে সমর্থন দেয়, সেটিকেও আনতে হবে চুক্তির মধ্যে। আসলে নেতানিয়াহু চাইছিলেন ইরানের পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ। তেহরানের মসনদে ইসরায়েলের বসিয়ে দেওয়া কোনো শাসক ছাড়া অন্য কোনো ইরানি নেতা এই দাবি মানতে পারেন না। এ পরিস্থিতিতে একমাত্র যে পথে ইসরায়েল তাদের লক্ষ্য পূরণ করতে পারে, সেটা হলো ইরানে শাসক বদল। তেমনটি হলে আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যাবে এবং একটি একমেরু পশ্চিম এশিয়া গড়ে ওঠার পথ সুগম হবে। ওয়াশিংটনের পূর্ণ মদদে তার মধ্যমণি হবে ইসরায়েল।

মনে রাখা দরকার, দক্ষিণ এশিয়াও এখন ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার অন্যতম ক্ষেত্র। ভারত ও চীনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমান্ত ছাড়াও সমুদ্রপথ, বন্দর, জ্বালানি রুট, আঞ্চলিক প্রভাবসহ স্ট্র্যাটেজিক (সার্বিক দীর্ঘমেয়াদি) বিষয়ে। বঙ্গোপসাগর এমন এক স্ট্র্যাটেজিক সমুদ্রপথ, যার নির্ভরশীল মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরিবহন, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্য। বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী আমাদের এই দেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর, সম্ভাব্য গভীর সমুদ্রবন্দর—এসব কেবল উন্নয়ন প্রকল্প নয়; এগুলো আঞ্চলিক শক্তির দৃষ্টিতে স্ট্র্যাটেজিক প্রবেশদ্বার। এই বন্দরব্যবস্থার ওপর যে রাষ্ট্র প্রভাব রাখবে, সে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও নৌ-নিরাপত্তায় প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হবে। তাই বন্দরের প্রশ্নে আন্তর্জাতিক আগ্রহ ব্যাপক। দক্ষিণ এশিয়াও আছে বিশ্ব গ্যাংস্টারের শ্যেনদৃষ্টিতে। এ অঞ্চলে চীনের প্রভাব ঠেকানো তার মূল লক্ষ্য।

বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কিছুটা শুল্ক কমানোর সুবিধা পেতে এমন এক বাণিজ্য চুক্তিতে সই করে গেছে, যাতে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও স্ট্র্যাটেজিক শর্তও যুক্ত। গত ৯ ফেব্রুয়ারি সই হওয়া চুক্তির মাধ্যমে এমন বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে, যার ফলে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, বাণিজ্য ও ডিজিটাল খাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়বে। বর্তমান নির্বাচিত সরকার এই চুক্তি পর্যালোচনা না করলে বাংলাদেশ স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে এগোতে পারবে না। যদিও সরকারের ইতিমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নতজানু থাকার ইঙ্গিতবহ। ইরানে আগ্রাসনের ঘটনায় সরকারের দেওয়া বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নাম পর্যন্ত নেই। সরকারের এই নীতি দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মনোভাবের বিপরীত। সরকার দ্রুত অবস্থান না বদলালে তার নিজের এবং দেশের সামনে মারাত্মক বিপদ।

লেখক: সাংবাদিক ও গবেষক

নতুন প্রজন্মকে বইমুখী করতে রাষ্ট্রের করণীয়

ইরানে স্থল অভিযানের আশঙ্কা খুবই কম: ওবায়দুল হক

কাগজ, বনকাগজ, বই ও পরিবেশ ভাবনা

নারীকে লড়াই করেই বাঁচতে হবে

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে দেশে বড় সংকটের শঙ্কা

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ জাতির উজ্জ্বলতম দিন

নারীর জন্য নিরাপদ সমাজ

সহযোগিতার নতুন যুগে বাংলাদেশ ও চীন

ফ্যামিলি কার্ড: কিছু বিবেচ্য বিষয়

ট্রাম্প খেলিছে এ বিশ্ব লয়ে