হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

ভেনেজুয়েলা আর ইরান

সম্পাদকীয়

ভেনেজুয়েলা এখন কোন পথে এগোবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। খ্রিষ্টীয় নববর্ষের আমেজ না কাটতেই মার্কিন আক্রমণে ভেনেজুয়েলা আক্রান্ত হলো, দেশটির প্রেসিডেন্ট ও তাঁর সহধর্মিণী বন্দী অবস্থায় দেশত্যাগে বাধ্য হলেন। একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশে এ ধরনের আক্রমণ আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন, কিন্তু সে রকম ঘটনাই ঘটে যেতে পারল দেশটিতে।

২০২৬ সাল পৃথিবীতে শান্তি নিয়ে আসুক—আমাদের সম্পাদকীয়তে এ রকম আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলাম আমরা। কিন্তু বছরের শুরুতেই অস্ত্রের ঝনঝনানি দেখল পৃথিবী। কিছুদিন আগে থেকে ইরানে চলমান গণ-আন্দোলন এখন সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। এই আন্দোলনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইন্ধনের অভিযোগ আছে। তবে দেশের অর্থনীতি যে বেসামাল অবস্থায় পৌঁছেছে, তাতে যেকোনো সময় গণবিস্ফোরণ ঘটতে পারে। এই আন্দোলনের ফলে ইরানে কোন ধরনের পরিবর্তন আসবে, তার ভবিষ্যদ্বাণী করা কঠিন।

তেলসমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলায় ১৯৯৯ সালে হুগো শাভেজের নেতৃত্বে যে বামপন্থার উত্থান হয়েছিল, তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সুখকর ছিল না। শাভেজ সে সময় আফগানিস্তান ও ইরানে মার্কিন আগ্রাসনের বিরোধিতা করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি কিউবা ও ইরানের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। মার্কিন প্রশাসন ভেনেজুয়েলার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়েছিল। শাভেজের পর নিকোলা মাদুরোর সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকেও যুক্তরাষ্ট্র মেনে নিতে পারেনি। অবশ্য ২০২৪ সালের নির্বাচনটি গায়ের জোরে করেছেন বলে মাদুরোর প্রতি অভিযোগ আছে। বিরোধীদের দমন-পীড়নের অভিযোগও আছে তাঁর বিরুদ্ধে।

ভেনেজুয়েলায় রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম তেলের মজুত, সেই মজুত দখল করার জন্যই যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা সরকারের সরাসরি বিরোধিতা করছে বলে যে কথা বলা হয়, তা উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কঠোরতাও চালাচ্ছে কয়েক মাস ধরে। গত সেপ্টেম্বরে মার্কিন নৌবাহিনী ভেনেজুয়েলা উপকূলে বিশাল নৌবহর মোতায়েন করেছিল। ক্যারিবীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরে তেলবাহী জাহাজে তারা হামলা চালিয়েছিল মাদক পাচারের অভিযোগে। আর তা করতে গিয়ে ভেনেজুয়েলার তেলবাহী জাহাজও জব্দ করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের এসব হামলায় প্রায় ১১০ জন নিহত হয়েছিলেন। একে যুদ্ধাপরাধ বলা হলে ভুল বলা হবে না বলে মনে করে থাকে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

ভেনেজুয়েলায় মার্কিনরা আক্রমণ চালাতে পারে—এ রকম আভাস কিন্তু পাওয়া যাচ্ছিল ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই। মাদুরোকে ট্রাম্প মাদক পাচারকারী ও যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসী পাঠানোর জন্য অভিযুক্ত করে আসছেন। শুধু তা-ই নয়, মাদুরোকে বিশ্বের অন্যতম বড় মাদক পাচারকারী হিসেবে অভিযুক্ত করে তাঁর মাথার দাম ৫ কোটি ডলারও ঘোষণা করেন তিনি।

বর্তমানে ভেনেজুয়েলা বা ইরানে যা যা ঘটছে, তাতে আশাবাদী হওয়ার কিছু নেই। ভেনেজুয়েলা বা ইরানের বিরোধী দলগুলো হয়তো কোনো না কোনোভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার মুখাপেক্ষী হয়ে আছে, কিন্তু আদতে মার্কিনরা তাদের রাজনীতিতে নাক গলালে দেশ দুটির অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও অর্থনৈতিক অবস্থা সামাল দেওয়া যাবে কি? অদূর ভবিষ্যতে দেশ দুটির ভাগ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করা কঠিন।

গণতন্ত্র, ভোট ও মৌলিক অধিকার

মেগা প্রকল্প পরিত্যাগ নয়, প্রয়োজন দুর্নীতিমুক্তকরণ

নিজের হাতে আইন

খেলিছ এ বিশ্ব লয়ে...

নির্বাচনে সাইবার নিরাপত্তা

খেজুরের গুড়ের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ুক

এলপিজির দামে নৈরাজ্য

ভেনেজুয়েলায় মাগা বিসর্জন দিলেন ট্রাম্প, পরের ‘বলিযোগ্য’ কী

রাজনীতিবিদদের রহস্যময় হলফনামা

গ্যাসের দামে পুড়ছে সাধারণের জীবন