স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ, সংগঠিত অভিবাসন অপরাধ দমন এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু, গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার এবং দীর্ঘদিনের সহযোগী। তিনি দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
হাইকমিশনার সারাহ কুক জানান, আগামী ৭ ও ৮ জুলাই লন্ডনে ২য় বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বৈঠকটি দুই দেশের সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০২৪ সালে স্বাক্ষরিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়মতান্ত্রিক প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য সরকারের পাঠানো ‘ইউকে লেটার’-এর প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
আলোচনায় অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধ দমন, পুলিশ রেফারেল প্রোগ্রাম, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ শনাক্তকরণ এবং সেগুলো দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা করে বাংলাদেশ। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের মানবিক সহায়তার জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা অব্যাহত থাকা প্রয়োজন।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, রাজনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-২ অধিশাখার যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ আবদুল কাদের, রাজনৈতিক-১ শাখার উপসচিব মিনারা নাজমীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।