হোম > জাতীয়

টিআইবির পর্যবেক্ষণ: প্রথমবারের মতো সংসদে যাচ্ছেন ২০৯ জন

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৯৯ শতাংশ প্রার্থী কোনো না কোনো নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন করেছেন বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে ৫৮ ধরনের আচরণবিধির প্রায় সব ক্ষেত্রেই লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।

রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে গতকাল সোমবার ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনপ্রক্রিয়া ও হলফনামাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির পক্ষ থেকে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

সাংবাদিকদের সামনে নির্বাচনপ্রক্রিয়া ও হলফনামাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন মো. মাহফুজুল হক ও মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। পরে সার্বিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গবেষণার অন্তর্ভুক্ত আসনগুলোয় ৯৯ শতাংশ প্রার্থী কোনো না কোনোভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। ছোটখাটো শোডাউন, যানবাহনসহ মিছিল, মশাল মিছিল, প্রতিপক্ষের পোস্টার-ব্যানার ছেঁড়া, অতিরিক্ত সমর্থক নিয়ে মনোনয়ন দাখিল —এ ধরনের বিভিন্ন অনিয়ম ঘটেছে। অনলাইন-অফলাইনেও আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নানান সীমাবদ্ধতার কারণে সব অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি।

টিআইবির মতে, এবারের নির্বাচনে অর্থ, পেশিশক্তি, ধর্ম এবং পুরুষতান্ত্রিকতার প্রভাব স্পষ্ট ছিল। কিছু ক্ষেত্রে সংখ্যা-গরিষ্ঠতান্ত্রিক মনোভাবও সুস্থ প্রতিযোগিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। নারী, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা এবং প্রতিবন্ধী ভোটারদের মধ্যে শঙ্কা ও অস্থিরতা কাজ করেছে, যার প্রভাব ভোটার উপস্থিতিতেও পড়েছে।

নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসে, অনেক ক্ষেত্রে তত অসুস্থ প্রতিযোগিতা রূপ নেয় বলে জানিয়েছে টিআইবি।

বিজয়ী হতেই হবে—এমন মানসিকতা নির্বাচনী আচরণে প্রতিফলিত হয়েছে। কোথাও কোথাও সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ। বৈশ্বিক মানদণ্ডে তা উল্লেখযোগ্য হলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রত্যাশার তুলনায় কম। প্রায় ৪০ শতাংশ ভোটার ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন, যার পেছনে আস্থার ঘাটতি অন্যতম কারণ বলে মনে করে টিআইবি।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে মনোনয়ন যাচাইয়ে সর্বাধিক আপিল ও বাতিলের ঘটনা ঘটেছে বলে জানায় সংস্থাটি। ১ শতাংশ সমর্থকের স্বাক্ষর থাকা সত্ত্বেও যাচাইয়ের সময় সমর্থককে না পাওয়া বা স্বাক্ষরে অসামঞ্জস্যতার অজুহাতে মনোনয়ন বাতিলের অভিযোগ রয়েছে। ৪৭৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করলেও ৩৫০ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়, যা মোটের ৭৩ শতাংশ।

প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো আচরণবিধি মানার অঙ্গীকার করলেও বাস্তবে তা রক্ষা হয়নি বলে জানিয়েছে টিআইবি। প্রচারণা ব্যয়ের সীমা ব্যাপকভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের ক্ষেত্রে লঙ্ঘনের মাত্রা সর্বাধিক।

নির্বাচন আয়োজনে সম্পৃক্ত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাংশের মধ্যে নিষ্ক্রিয়তা লক্ষ করা গেছে বলে জানিয়েছে টিআইবি। সংস্থাটি বলেছে, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের পক্ষ থেকেও নির্বাচন কমিশনের প্রতি অসহযোগিতার মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। সার্বিকভাবে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য মাত্রায় সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হলেও আচরণবিধি প্রতিপালনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা পুরোপুরি সফল হয়নি।

ত্রয়োদশ সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব মাত্র ২ দশমিক ৩৬ শতাংশ, যা ২০০৮ সালের নবম সংসদের তুলনায় অর্ধেক এবং সর্বনিম্ন। এবার প্রথমবারের মতো সংসদে যাচ্ছেন ২০৯ জন বা ৭০ শতাংশ সদস্য। সম্ভাব্য সংসদ নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতাও প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

এ ছাড়া সংসদের ৮৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ সদস্য স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী; তাঁদের মধ্যে ৪৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ স্নাতকোত্তর। ব্যবসায়ী পেশার সদস্য প্রায় ৬০ শতাংশ, যদিও আগের সংসদের তুলনায় কিছুটা কমেছে।

অন্যদিকে প্রায় অর্ধেক সদস্যের ঋণ রয়েছে; মোট দায় বা ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা, যা গত চার সংসদের মধ্যে সর্বোচ্চ। দলগতভাবে বিএনপিতে ঋণগ্রস্ত সদস্যের হার ৬২ শতাংশ এবং জামায়াতে ইসলামীতে ১৬ শতাংশ। ৭৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ সদস্য কোটিপতি; অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য অনুযায়ী ২৩৬ জন কোটিপতি এবং ১৩ জন শতকোটিপতি।

নির্বাচনে ২১ শতাংশ আসনে কোথাও কোথাও জাল ভোট দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘তবে কতটা ঘটনা ঘটেছে, সেটি আমরা প্রতিবেদনে বলছি না।’

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে টিআইবির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো মো. মাহফুজুল হক বলেন, ‘গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত আসনে একটা ঘটনা হলে আমরা সেটা রেকর্ড করেছি। এটা আসনের শতাংশ বা ভোটের শতাংশ নয়। নির্বাচনপ্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের জন্য ৩০০টি সংসদীয় আসন থেকে প্রতিনিধিত্বশীল নমুনায়ন পদ্ধতি ব্যবহার করে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ৭০টি আসনের নমুনা ব্যবহার করা হয়েছে গবেষণায়।’

নির্বাচনে দুই উপদেষ্টা-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে পর্যবেক্ষক নিবন্ধন

নির্বাচনে পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে গুরুতর ত্রুটির অভিযোগ তুলেছে টিআইবি। পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনপ্রক্রিয়ায় সরকারি প্রভাব ছিল বলেও অভিযোগ করা হয়। বিশেষ করে দুই উপদেষ্টা-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে টিআইবি। তবে কোন উপদেষ্টাদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যবেক্ষক নিবন্ধন পেয়েছে, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।

টিআইবির দাবি, নামসর্বস্ব ও দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট–এমনকি পূর্বে রাজনৈতিক দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী ব্যক্তির প্রতিষ্ঠানকেও নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে একাধিকবার আবেদন করেও অভিজ্ঞ কিছু প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন পায়নি।

নির্বাচিত সরকার পাচ্ছে দেশ

মন্ত্রীদের জন্য ৩৭ বাড়ি ও গাড়ি প্রস্তুত

শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে যান চলাচল সীমিত থাকবে

আগামীকাল জাতীয় সংসদ এলাকায় ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ

নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় এমএসএফের উদ্বেগ

বিটিআরসির ৪০ কর্মকর্তার দপ্তর-বিভাগ রদবদল

বিদায়ী ভাষণে যা বললেন প্রধান উপদেষ্টা

বিচার বিভাগ আলাদা করতে মাজদার হোসেন মামলার রায় বাস্তবায়ন করে গেলাম: ড. ইউনূস

আজ আমি বিদায় নেওয়ার জন্য উপস্থিত হয়েছি: প্রধান উপদেষ্টা

মুখ্য সচিবের নিয়োগও বাতিল