ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা-বরিশাল নৌপথে লঞ্চের বিশেষ সার্ভিস শুরু হতে যাচ্ছে ২৫ মে। এ জন্য আজ রোববার থেকে বিলাসবহুল লঞ্চগুলোতে কেবিনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে। এবার সরকার-নির্ধারিত ভাড়ায় ঈদের সার্ভিস চলবে বলে জানিয়েছে অভ্যন্তরীণ লঞ্চ মালিক সমিতি।
সমিতির মহাসচিব সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, লঞ্চমালিকেরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে বিশেষ সার্ভিস ২৫, ২৬ ও ২৭ মে হবে। তবে ২৬ ও ২৭ মে সবচেয়ে বেশি চাপ হবে। যাত্রীর চাপের ওপর নির্ভর করে লঞ্চ বাড়ানো হবে।
সিদ্দিকুর রহমান জানান, ঝড়ের মৌসুমের কারণে নৌ-দুর্ঘটনা এড়াতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে সতর্ক করা হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে নৌকার মাধ্যমে লঞ্চে ওঠার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া সব লঞ্চে সরঞ্জামাদি রাখতে হবে। লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করা যাবে না। নৌপথে যাত্রীনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বয়াবাতিসহ সব দিকনির্দেশনা আছে কি না, তার তদারকি করার তাগিদ দেওয়া হয়।
মালিক সমিতির মহাসচিব বলেন, এবার সরকার-নির্ধারিত ভাড়া নেওয়া হবে। ঢাকা-বরিশাল নৌপথে ঈদে ১০ থেকে ১২টি লঞ্চ চলাচল করতে পারে বলে জানান তিনি।
এম ভি সুন্দরবন লঞ্চের বরিশাল বুকিং অফিসের কর্মী হৃদয় জানান, তাঁরা গত সপ্তাহ থেকে ঈদের সার্ভিসের জন্য যাত্রীদের কাছ থেকে স্লিপ নেওয়া শুরু করেছেন। আজ থেকে টিকিট দেওয়া শুরু হবে। ২৬ ও ২৭ মের টিকিটের চাহিদা বেশি।
সুরভী লঞ্চের বুকিং অফিস সূত্রে জানা গেছে, তারা কোরবানির ঈদের টিকিট বিক্রি শুরু করতে যাচ্ছে। সুরভী লঞ্চের সার্ভিস রয়েছে ২৪ ও ২৬ মে। সিঙ্গেল কেবিন ১ হাজার ২০০ এবং ডাবল কেবিন ২ হাজার ৪০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
নৌনিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের বরিশালের পরিদর্শক জুলফিকার আলী বলেন, কোরবানির ঈদে রোজার ঈদের মতো ততটা ভিড় হবে না। তারপরও তাঁরা সতর্ক রয়েছেন। পর্যাপ্ত লঞ্চ রয়েছে ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচলের জন্য। ২৫, ২৬ ও ২৭ মে যাত্রীর চাপ বেশি থাকবে। ঈদের পরের তিন দিন আবার চাপ বাড়বে।
এদিকে ঈদে ঝড়ের কথা মাথায় রেখে লঞ্চ চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন নৌযাত্রী ঐক্য পরিষদের বরিশালের আহ্বায়ক আ. রশিদ নিলু। তিনি লঞ্চভাড়া না বাড়ানো এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন। বিশেষ করে ডেকের যাত্রীদের হয়রানি না করার আহ্বান জানান তিনি।