হোম > জাতীয়

ইঞ্জিনসংকট: রেলে পণ্য পরিবহন কমছে

তৌফিকুল ইসলাম, ঢাকা 

ফাইল ছবি

লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) সংকটের কারণে রেলওয়ের কনটেইনার পরিবহন কার্যক্রম ব্যাপক চাপে পড়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকা রুটে নিয়মিত ট্রেন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় কনটেইনার পরিবহন কমে বন্দরে তৈরি হচ্ছে জট। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে রেলের আয়, বেসরকারি ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আমদানি পণ্যের সরবরাহব্যবস্থায়। গত মে মাসে চট্টগ্রাম-ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে কনটেইনার ট্রেনের ট্রিপ হয় ৬২টি, যা গত প্রায় দেড় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

রেলওয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, লোকোমোটিভের সংকটই এ পরিস্থিতির মূল কারণ। পর্যাপ্ত ইঞ্জিন না থাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী কনটেইনার ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।

রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম-ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে কনটেইনার ট্রেন চলাচল মাসভেদে ওঠানামা করেছে। জানুয়ারিতে ১১৩টি ও ফেব্রুয়ারিতে ১১১টি ট্রিপ পরিচালিত হয়। মার্চ ও এপ্রিলে সর্বোচ্চ ১৪০টি করে ট্রিপ হলেও এর পর থেকে ধীরে ধীরে কমতে থাকে। মে মাসে ১০৫টি, জুনে ৯১টি, জুলাইয়ে ৮৪টি, আগস্টে ১০৭টি, সেপ্টেম্বরে ১১৮টি, অক্টোবরে ৮৪টি, নভেম্বরে ৯৫টি এবং ডিসেম্বরে মাত্র ৭৩ ট্রিপ চলেছে।

চলতি বছরেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। জানুয়ারিতে ১০৪টি, ফেব্রুয়ারিতে ১০৬টি এবং মার্চে ১১৯টি ট্রিপের পর এপ্রিল মাসে তা কমে ১০২টিতে নেমে আসে। মে মাসে ট্রিপ হয় মাত্র ৬২টি।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘লোকোমোটিভের স্বল্পতার কারণেই চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে কনটেইনার ট্রেন পরিচালনা আগের মতো করা যাচ্ছে না। যাত্রীবাহী ট্রেন বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। তাই প্রথমে যাত্রীবাহী ট্রেন পরিচালনার জন্য লোকোমোটিভ বরাদ্দ দিতে হয়, এরপর যা থাকে, তা দিয়েই কনটেইনার ট্রেন চালাতে হয়। প্রতিদিন কনটেইনার ট্রেন পরিচালনায় তিন থেকে চারটি লোকোমোটিভের প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমরা কোনো দিন দুটি, আবার কোনো দিন তিনটি দিতে পারি। এ কারণেই কনটেইনার পরিবহন কিছুটা কমেছে।’

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালের মার্চ ও এপ্রিলে সর্বোচ্চ ১৪০টি ট্রিপ পরিচালনার পর থেকে কনটেইনার ট্রেনের চলাচলে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দেয়। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ট্রিপের সংখ্যা ১০০-এর বেশি থাকলেও এপ্রিল থেকে কমতে শুরু করে।

গত ২৯ জুন বাংলাদেশ রেলওয়ের (পূর্বাঞ্চল) প্রধান কার্যালয়ে (সিআরবি) পাঠানো অভ্যন্তরীণ এক জরুরি বার্তায় বলা হয়েছে, চট্টগ্রামের চিটাগং গুডস পোর্ট ইয়ার্ডে (সিজিপিওয়াই) বর্তমানে ১৩টি কনটেইনার ট্রেনের রেকে ৫৪৬ টিইইউস কনটেইনার লোড অবস্থায় রয়েছে। পাশাপাশি তিনটি তেলবাহী ট্রেনের রেকও দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে। বার্তায় বলা হয়, এসব কনটেইনার দ্রুত সরাতে প্রতিদিন অন্তত ৬-৭টি লোকোমোটিভ প্রয়োজন। কিন্তু ইঞ্জিনের অভাবে এগুলো সময়মতো পরিবহন করা যাচ্ছে না। এ কারণে কনটেইনার ও তেলবাহী রেক ইয়ার্ডে আটকে রয়েছে।

পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ডের ধারণক্ষমতা ৮৮৭ টিইইউস হলেও লোকোমোটিভ সংকটের কারণে একসময় সেখানে প্রায় দ্বিগুণ (১ হাজার ৬৫৮ টিইইউস) কনটেইনার জমে যায়।

বন্দর কর্তৃপক্ষের হিসাবে, প্রতিদিন অন্তত ৪ জোড়া কনটেইনার ট্রেন পরিচালনা করে প্রায় ২০০ টিইইউস কনটেইনার ঢাকায় পাঠানো প্রয়োজন। তবে বাস্তবে অনেক দিন ১-৩ জোড়া ট্রেন চালানো হয়েছে। কোনো কোনো দিন একটিও চলেনি। ফলে অনেক কনটেইনার ৩-৪ সপ্তাহ পর্যন্ত বন্দরে আটকে থাকছে। এতে আমদানিকারকদের অর্থদণ্ড দিতে হচ্ছে। এ ছাড়া কাঁচামাল সরবরাহেও বিলম্ব ঘটছে।

রেলওয়ের সূত্র জানায়, বর্তমানে রেলওয়ের বহরে মোট ২৭১টি লোকোমোটিভ রয়েছে, যেগুলোর মধ্যে ১৭৭টি সচল। সচলগুলোর মধ্যে মিটারগেজ ইঞ্জিন ৯০টি ও ব্রডগেজ ৮৭টি। বাকিগুলো মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে আছে। আবার লোকোমোটিভের মধ্যে মিটারগেজের প্রায় ৬৫ শতাংশ এবং ব্রডগেজের প্রায় ৪৫ শতাংশ মেয়াদোত্তীর্ণ।

রেলের কর্মকর্তারা বলছেন, বিকল লোকোমোটিভ মাঝেমধ্যেই মেরামত করা হলেও কোনো কোনোটি অল্প সময়ের মধ্যেই আবার বিকল হয়ে পড়ছে। এতে মেরামতকাজ ও যন্ত্রাংশের গুণগত মান এবং রক্ষণাবেক্ষণব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, সংকট মোকাবিলায় পুরোনো ইঞ্জিনগুলো মেরামত করে সচল করার চেষ্টা চলছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়।

এ বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘যেভাবে রেললাইন স্থাপন করা হয়েছে, সেভাবে লোকোমোটিভের সংখ্যা বাড়ানো হয়নি। পণ্য পরিবহনে লোকোমোটিভ সংকটের বিষয়টি আমাদের মাথায় আছে। ইঞ্জিনের সংখ্যা বাড়াতে আমরা কাজ করছি। বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমেও রেলপথ ব্যবহার করে পণ্য পরিবহন বাড়ানোর পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।’

বাংলাদেশ রেলওয়ের সাবেক মহাপরিচালক সরদার শাহাদাত আলী বলেন, আগে পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সীমিত সম্পদ দিয়েও কনটেইনার পরিবহনসহ ট্রেন পরিচালনা সচল রাখা হতো। সর্বশেষ কোরিয়া থেকে আসা লোকোমোটিভগুলোর একটি অংশ বিভিন্ন কারিগরি ত্রুটির কারণে এখন সচল নেই। খুব অল্প সময়ে সেগুলো সমস্যায় পড়েছে, যাতে এত সংকট হচ্ছে। এ ছাড়া খুচরা যন্ত্রাংশ কেনায় দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতার কারণে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যাহত হচ্ছে।

এই সংকট সমাধানের উপায় হিসেবে সরদার শাহাদাত আলী স্বল্প মেয়াদে দ্রুত খুচরা যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করে বিকল ইঞ্জিন সচল করার পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, এর পাশাপাশি দীর্ঘ মেয়াদে নতুন মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহ এবং ভবিষ্যতের রেল প্রকল্পগুলোর সঙ্গে ইঞ্জিন ও কোচ সংগ্রহের বিষয়টিকে সমন্বিত করতে হবে।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘রেলওয়ে কখনোই বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পরিকল্পনা করেনি। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে পণ্য পরিবহনের জন্য অনেক আগেই আলাদা রেল করিডর করা উচিত ছিল। একই সঙ্গে আইসিডি টার্মিনালের সক্ষমতা বাড়ানোও প্রয়োজন ছিল। শুধু লোকোমোটিভ বাড়ালেই হবে না, কনটেইনার সংরক্ষণ ও পরিচালনার প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও থাকতে হবে। লোকোমোটিভ সংগ্রহের উদ্যোগ এখনই নিতে হবে; কারণ, এগুলো সংগ্রহ করতেও সময় লাগে। বাণিজ্যিকভাবে রেলের কনটেইনার পরিবহন বাড়াতে সমন্বিত পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ জরুরি।’

ক্ষতিগ্রস্ত ২২ হাজার ঘরবাড়ি

অতিরিক্ত ২ কোটি ৩৪ লাখ শিশু দারিদ্র‍্যঝুঁকিতে, বাংলাদেশে ১২ লাখ: ইউনিসেফ

অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারণ করেই জুলাই বিপ্লব হয়েছিল: চিফ হুইপ

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে ৫ ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

বৃষ্টিভেজা রাতের হত্যাকাণ্ড: পুরো অপারেশনে সময় নিল মাত্র ৯ মিনিট

নৌবাহিনীর প্রধান হচ্ছেন রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম

নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ বন্ধ করা যাবে না: হাইকোর্ট

চব্বিশের মতো ঘটনা আর কখনো না ঘটুক: ডা. জাহেদ উর রহমান

সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কমছে না

ই-হেলথ কার্ড ও ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন চূড়ান্ত পর্যায়ে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী