হোম > জাতীয়

অপরাধীরা বেপরোয়া, পুলিশে অস্বস্তি অভিযান নিয়ে

শাহরিয়ার হাসান, ঢাকা 

ছবি: সংগৃহীত

অপরাধীদের গ্রেপ্তার অভিযানে পুলিশের ওপর একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটছে। অপরাধীরা এবং গ্রেপ্তার আসামির সহযোগী-সমর্থকেরা সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালাচ্ছে। এ কারণে অভিযান চালানো নিয়ে পুলিশের মধ্যে একধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে।

অপরাধ বিশ্লেষকেরা বলছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে পুলিশের কিছুদিনের নিষ্ক্রিয়তার কারণে অপরাধীদের মধ্যে যে বেপরোয়া মনোভাব তৈরি হয়েছিল, তা রয়ে গেছে। অপরাধীদের এমন আচরণের ক্ষেত্রে ‘মব সংস্কৃতির’ও দায় রয়েছে।

পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, পুলিশ বাহিনী আগের মতো কঠোর ভূমিকায় যেতে না পারায় অপরাধীরা সেই সুযোগ নিচ্ছে। এ ছাড়া ২০২৪ সালের আগস্টে হারানো মনোবল এখনো পুরোপুরি ফিরে পাননি অনেক পুলিশ সদস্য। এটিও পুলিশের কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলছে।

সার্বিক বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (অপরাধ ও অপারেশন) খন্দকার রফিকুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি কিছুটা ধীরগতিতে হচ্ছে। একদিকে মনোবল হারানো পুলিশ বাহিনী, অন্যদিকে অপরাধীদের বেপরোয়া আচরণ—এ দুইয়ের মাঝেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযানে যাওয়া পুলিশ দলের ওপর হামলার বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে নারায়ণগঞ্জের পুরান বন্দরে ছিনতাইয়ের ঘটনা তদন্তে যাওয়া পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায় সংঘবদ্ধ ১০-১৫ জন। তারা দুই পুলিশ সদস্যকে ছুরিকাঘাত করে একটি শটগান ছিনিয়ে নিয়ে যায়। অবশ্য শটগানটি চার ঘণ্টা পর পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার ও তিনজনকে আটক করে পুলিশ।

এর আগে গত এপ্রিল মাসে ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে আসামি ধরতে গিয়ে স্থানীয়দের হামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন। হাতকড়া পরানো আসামিকেও ছিনিয়ে নিয়ে যায় তার সমর্থকেরা। এর কয়েক দিন আগে বাগেরহাটে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার এক আসামিকে ছিনিয়ে নিতে এক পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে জখম করে তার সহযোগীরা। ওই মাসেই যশোরের কেশবপুরে মাইকিং করে লোক জড়ো করে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

শুধু অভিযানে যাওয়া পুলিশ সদস্যদের ওপর নয়, এপ্রিলে সিলেট নগরে সড়কে ট্রাফিক পুলিশের ওপরও হামলা হয়েছে। সিলেটের এয়ারপোর্ট থানার বাইপাস পয়েন্টে গাড়ির কাগজপত্র দেখতে চাওয়ায় পুলিশ সদস্য খসরু হাসান হামলার শিকার হন। ২৬ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে ইঞ্জিন অয়েল নিতে গিয়ে এক কনস্টেবল স্থানীয় এক রাজনৈতিক দলের নেতার হাতে মারধরের শিকার হন। ১৬ মার্চ নারায়ণগঞ্জে মাদক কারবারিদের ধরতে গিয়ে এক উপপরিদর্শক ও এক কনস্টেবল হামলার শিকার হন; তাঁদের মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগও ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা।

একের পর এক হামলার ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, অপরাধীদের মধ্যে বেপরোয়া মনোভাব তৈরি হয়েছে। তারা সামান্য কারণেও পুলিশের ওপর হামলা করছে।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকার বিদায় নেওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় এসেছে নির্বাচিত বিএনপি সরকার। কিন্তু এখনো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি চোখে পড়ছে না। খুন, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধ বাড়ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে প্রথম কর্মদিবসে ‘মব কালচার’ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, দাবি আদায়ের নামে উচ্ছৃঙ্খল জনতার এই সংস্কৃতি বরদাশত করা হবে না। তবে বাস্তবে ‘মব কালচার’ কমেনি। পুলিশের ওপর হামলাও অনেকটা ‘মব কালচারের’ ছোট সংস্করণ।

মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলে গণপিটুনি বা মবের ঘটনায় ২১ জন নিহত হয়েছেন, যা মার্চে ছিল ১৯ জন। এপ্রিলে মবের ঘটনা ঘটেছে ৪৯টি, মার্চে ছিল ৩৬টি। আহতের সংখ্যাও বেড়েছে, এপ্রিলে ৪৯ জন, মার্চে ৩১ জন। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, মব হলো বিচারবহির্ভূত প্রবণতা, যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর কয়েক দিন নিষ্ক্রিয় থেকে পুলিশ সদস্যরা কাজে ফিরলেও অনেকের মানসিক জড়তা কাটেনি বলে মনে করছেন পুলিশের সদস্যরাই। কতটুকু শক্তি প্রয়োগ করা যাবে, এ নিয়ে মাঠপর্যায়ের সদস্যদের মধ্যে এখনো অস্বস্তি কাজ করছে। এই সুযোগে অপরাধীরা সংঘবদ্ধ হয়ে অপরাধে জড়াচ্ছে। পুলিশের ওপর হামলা চালাতেও দ্বিধা করছে না।

রাজধানীর শ্যামলীতে চাঁদা দাবির শিকার কিডনি বিশেষজ্ঞ ডা. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আগে পুলিশকে দেখে সন্ত্রাসীরা ভয় পেত, এখন পুলিশই সন্ত্রাসীদের দেখে ভয় পায়। তারা চাইলেও আইন প্রয়োগ করতে পারে না। তাই পুলিশের কাছে সাহায্য চেয়েও আমরা পাইনি।’

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদর দপ্তরে এপ্রিলের মাঝামাঝি একটি বৈঠক হয়। সূত্র জানায়, বৈঠকে বিভিন্ন স্থানে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বৈঠকের বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের পদস্থ এক কর্মকর্তা বলেন, থানা-পুলিশের টহল বাড়ানো এবং মাঠপর্যায়ের সক্ষমতা জোরদারে নির্দেশনা দেওয়া হয়। কোনো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ভিন্ন। চট্টগ্রাম রেঞ্জের নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক এক পুলিশ সুপার বলেন, বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে এখনো ভীতি কাজ করছে। কেউ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে দায়িত্ব পালনে গাফিলতিও করছেন। মাঠে গেলে সাধারণ মানুষ পুলিশকে খুব বেশি সহযোগিতা করছেন না। তবে তাঁরা চেষ্টা করে যাচ্ছেন মানুষের আস্থা অর্জনের।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এক থানার ওসি বলেন, পুলিশ আক্রান্ত হলে আইনের প্রয়োগ খুব কম হচ্ছে, যা অপরাধীদের সাহস বাড়িয়ে দিচ্ছে। এখন মাঠে চাইলেও পুলিশ শক্ত অবস্থান নিতে পারে না অনুমতি না পাওয়ায়।

অপরাধীদের এমন আচরণের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. উমর ফারুক আজকের পত্রিকাকে বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের মধ্যে আইন না মানার একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে। সরকার যদি এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে এই বিশৃঙ্খলা আরও বাড়বে।

সহযোগিতা-বিরোধিতার মিলমিশের সংসদ

জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংসদীয় বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত

অপতথ্য মোকাবিলায় সম্মিলিত পদক্ষেপের আহ্বান

নতুন ইলেকট্রিক বাস-ট্রাক আমদানিতে শুল্ক-কর অব্যাহতি

জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ডিসিদের কাজের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

শপথ নিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ নবনির্বাচিত সদস্য

হাঁটুর নিচে গুলির নির্দেশ দিয়েছিলেন ডিএমপি কমিশনার হাবিব

আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তরগুলোয় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা: আইনমন্ত্রী

শেষ হলো জাতীয় পিঠা উৎসব

হত্যাচেষ্টা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র