হোম > জাতীয়

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অপরিহার্য: বিদায় সংবর্ধনায় প্রধান বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেছেন, বিচার বিভাগ প্রজাতন্ত্রের হৃৎপিণ্ড। একটি দেশের জনগণ শাসন বিভাগ বা আইন বিভাগের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলতে পারেন, কিন্তু বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা হারালে সেই জাতিকে খারাপ দিনটির জন্য অপেক্ষা করতে হবে। বিচার বিভাগ যদি আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ করতে ব্যর্থ বা পিছপা হয়, তাহলে রাষ্ট্র ও নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হতে বাধ্য। 

আজ বৃহস্পতিবার বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আপিল বিভাগের এক নম্বর এজলাস কক্ষে এসব কথা বলেন প্রধান বিচারপতি। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট বার ও অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকে তাঁকে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। 

প্রধান বিচারপতি বলেন, আইনের নিরঙ্কুশ আধিপত্য বা প্রাধান্য কার্যকর করার দায়িত্ব বিচার বিভাগের। বিচার বিভাগ সংবিধানের আধিপত্য রক্ষার পাশাপাশি জনগণের মৌলিক অধিকারের রক্ষক। 

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে লিখিত বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘সত্যিকারের অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের বিকাশ, আইনের শাসন সংরক্ষণ, সমাজের দুর্বল অংশের অধিকার এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অপরিহার্য। সুপ্রিম কোর্ট বিচার প্রশাসনের সর্বোচ্চ আদালত। আর বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এর সর্বোচ্চত্বের ওপর নির্ভর করে। সাংবিধানিক বিধান দিয়ে সব ধরনের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব থেকে বিচার বিভাগকে মজবুত দেওয়াল দিয়ে রক্ষা করার দায়িত্ব বিচারকদের, আইনজীবীদের এবং রাষ্ট্রের প্রত্যেক দায়িত্বশীল নাগরিকের। সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে সর্বনাশা দিনের জন্য প্রতিটি নাগরিকের অপেক্ষা করতে হবে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক বিভক্তি রাজপথ অতিক্রম করে বিচারালয় অভিমুখে ধাবিত হলে সেটা বিচারালয়ের জন্য মঙ্গলজনক হয় না। আমাদের মনে রাখতে হবে, আইনজীবীদের বিভক্তি ও মতভেদ এবং তার প্রতিক্রিয়া বিচারালয়কে ক্ষতিগ্রস্ত করে। রাজনৈতিক মতাদর্শ রাজনৈতিকভাবে বাস্তবায়ন করলে এবং বিচারালয়কে নিরাপদ দূরত্বে রাখলে বিচার বিভাগ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। যে মহান চিন্তা ও কল্যাণ চেতনাকে সন্নিবেশিত করে আমাদের সংবিধান প্রণীত হয়েছে, তার ধারক ও বাহক হিসেবে দেশের সব আইন ও সব আইনগত কার্যক্রম সাংবিধানিক চেতনার প্রতিফলন নিশ্চিত করার সুমহান জাতীয় দায়িত্ব আমাদের সবার। মানুষ চায় শান্তি। কিন্তু পরিপূর্ণ শান্তির জন্য আমাদের এখনো অনেকটাই এগোতে হবে। আমাদের আঁকাবাঁকা জায়গাগুলোকে সোজা করতে হবে।’

বিচারকদের রাজনীতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচারকদের রাজনৈতিকভাবে বয়ে যাওয়া হাওয়া থেকে নিজেদের মুক্ত রেখে সংবিধান, আইন নিজেদের বিচারিক বিবেকের প্রতি পরিপূর্ণ অনুগত থেকে বিচারকাজ করতে হবে। সব বিচারককে অসামান্য নৈতিকতার অধিকারী হতে হবে। নইলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা শুধু সংবিধানের ভেতরই আবদ্ধ থাকবে। ধন্য তাঁরাই, যাঁরা অন্তরে শুদ্ধ।

প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় জনগণের অগাধ আস্থা স্থাপন করতে হবে এবং থাকতে হবে নইলে জনগণের অধিকার রক্ষা হবে না এবং স্বাধীনতাও বিপন্ন হবে। আইন যদি দরিদ্রকে পিষে দেয় আর ধনী ব্যক্তি যদি আইনকে পিষে দেয়, তাহলে রাষ্ট্র ও বিচার বিভাগ সঠিকভাবে চলছে এটা কোনোভাবেই বলা যাবে না। শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য শক্তিশালী ও স্বাধীন বিচার বিভাগ অপরিহার্য। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো আইনের শাসন এবং বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা। 

তিনি আরও বলেন, ‘আমি রাজনীতিবিদ আইনজীবীগণকে অনুরোধ করব, বিচারালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাষ্ট্র সৃষ্টিতে ত্যাগের কথা অন্তত ১০ বার ভাববেন। কারণ আপনাদের সিদ্ধান্তে ভুল হলে শেষ বিচারে তাতে রাষ্ট্রের ক্ষতি হয়। ক্ষতি হয় বিচার বিভাগের। বিজ্ঞ আইনজীবীদের সেই শক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে, যে শক্তি বিচারালয়কে দুর্বল করে, যে শক্তি গণতান্ত্রিক জীবনযাপন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। একজন রাজনীতিবিদ পরবর্তী নির্বাচনের কথা ভাবেন, একজন রাষ্ট্রনায়ক পরবর্তী প্রজন্মের কথা ভাবেন। আর একজন বিচারককে ভাবতে হবে সংবিধান ও আইনানুযায়ী ন্যায় বিচার করার কথা।’

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির বড় চ্যালেঞ্জ আর্থিক সীমাবদ্ধতা

রাজনীতিকদের অস্ত্র, গানম্যান সুবিধা নিয়ে পর্যালোচনা চলছে

অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তার: অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩২ অধ্যাদেশ অনিশ্চয়তায়

ড. ইউনূস এখন কোথায় আছেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী উঠবেন কোথায়?

প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা হলেন আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন আরও দুজন

২৬ ফেব্রুয়ারি বসতে পারে সংসদের প্রথম অধিবেশন, সভাপতিত্ব করবেন কে

৪৪তম বিসিএস: নন-ক্যাডার পদে ৪১৩৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ

ঈদের আগেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ সেবা দিতে মন্ত্রিসভা কমিটি