জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাস্টারমাইন্ড তারেক রহমান বলে দাবি করেছেন সিলেট-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য এমরান আহমেদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘জুলাই বিপ্লব নিয়ে বিভাজন তৈরির দিন শেষ হওয়া উচিত। জুলাই বিপ্লবের মাস্টারমাইন্ড ছিলেন আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান।’
নিজেকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ উল্লেখ করে এমপি এমরান বলেন, ‘জুলাই বিপ্লব মানে আমাদের সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে অপমান করে কথা বলা নয়। জুলাই বিপ্লব মানে জুলাইয়ের নামে মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রণালয়ে গিয়ে চাঁদাবাজি করা নয়।’
আজ সোমবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এমরান আহমেদ চৌধুরী আরও বলেন, জুলাই বিপ্লব হয়েছিল ‘বৈষম্যহীন একটা সমাজব্যবস্থার জন্য’ এবং ‘গণতান্ত্রিক ভোটাধিকারের জন্য’।
নওগাঁ-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপু বলেন, রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে অতীতের দুঃশাসন, গুম-খুন, রাজনৈতিক অধিকারহীনতার বহু সত্য স্বীকার করেছেন। সে কারণে তাঁর অতীতের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে তাঁকে ধন্যবাদ দেওয়া যায়।
ইকরামুল বারী আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বলে ভাষণ শুরু করেছেন এবং ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ বলে শেষ করেছেন, যা তিনি অতীতে করেননি।
নরসিংদী-৫ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন রাষ্ট্রপতির ভাষণের অর্থনৈতিক অংশের প্রশংসা করলেও বলেন, তাঁর (রাষ্ট্রপতি) ব্যক্তিগত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আছে। তিনি সংসদে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ‘ঘৃণা প্রস্তাব’ আনার কথাও তোলেন।
অন্যদিকে ঝিনাইদহ-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মতিউর রহমান জানান, তিনি রাষ্ট্রপতির ভাষণকে রাজনৈতিক বিচারে অভিনন্দন জানাতে পারছেন না। তাঁর অভিযোগ, রাষ্ট্রপতি ফ্যাসিবাদী শাসনের সময় নীরব ছিলেন।
ঝিনাইদহ-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আবু তালেব জানান, বিগত সরকারের ‘দোসর’ হিসেবে রাষ্ট্রপতির দায় এড়িয়ে যাওয়া যায় না, তাই ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে ধন্যবাদ দিতে পারছেন না তিনি।
রংপুর-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান বেলাল জানান, তাঁর অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে ‘রিজিওনাল ডিসপারিটি’ বা আঞ্চলিক বৈষম্যের শিকার। তিনি দাবি করেন, রংপুরে শিক্ষিত বেকারের হার ২৮ শতাংশ, যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ।
তিনি রংপুর সিটি করপোরেশনের দুর্বল অবকাঠামো, খাল দখল, মেডিকেল কলেজে বেড-জনবল সংকট, শিশু হাসপাতাল চালু না হওয়া এবং কর্মসংস্থানের ঘাটতির কথা তুলে ধরেন।
রংপুর-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী জানান, তাঁর এলাকায় ৮ লাখ মানুষের জন্য একটিমাত্র ৫০ শয্যার হাসপাতাল আছে, যেখানে একজন ক্লিনার দিয়ে কাজ চলছে।
রংপুর-৬ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নুরুল আমিন জানান, তাঁর এলাকায় কয়লাখনি, লোহার খনি, আইটি পার্ক ও কৃষিভিত্তিক শিল্পের সম্ভাবনা আছে, কিন্তু সেগুলো কাজে লাগাতে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দরকার।
ফরিদপুর-৩ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য নায়েব ইউসুফ আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুরবাসী বিভাগ ঘোষণার আশ্বাস পেলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার দ্রুত ফরিদপুরকে বিভাগ ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পদ্মা রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
নওগাঁ-৫ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু নওগাঁ শহরের প্রধান সড়ক চার লেনে উন্নীত করা এবং হাসপাতালের বেড ও চিকিৎসাসুবিধা বাড়ানোর দাবি তোলেন।
দিনাজপুর-৫ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য এ জেড এম রেজওয়ানুল হক জানান, তাঁর এলাকায় কয়লা ও তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সেগুলো পুরোপুরি কাজে লাগানো হচ্ছে না।
গোপালগঞ্জ-২ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য কে এম বাবর বলেন, গত বছরের একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে দায়ের হওয়া মামলায় বহু নিরীহ মানুষ আসামি হয়েছেন। তিনি সঠিক তদন্তের ভিত্তিতে তাঁদের অব্যাহতির দাবি জানান।