ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) ১৬ হাজারের মতো সদস্য মোতায়েন করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে এতে আপত্তি জানিয়েছে বিএনপি। দলটি মনে করছে, নির্বাচনের মতো জটিল রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় এই তরুণ ক্যাডেটদের সম্পৃক্ত করা হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বিতর্কিত হতে পারে।
এ ছাড়া ভোটার স্থানান্তর, শান্তি কমিটি গঠন, দেশি পর্যবেক্ষক অনুমোদনসহ আরও কয়েকটি বিষয়ে ইসির কাছে অভিযোগ জানিয়েছে বিএনপি।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আজ রোববার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব অভিযোগ-আপত্তির কথা সাংবাদিকদের জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান।
ভোটার স্থানান্তরের বিষয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘গত প্রায় এক-দেড় বছরের মধ্যে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রচুর ভোটারের মাইগ্রেশন (স্থানান্তর) হয়েছে। বিশেষ কিছু এলাকায় অনেক নতুন ভোটার হয়েছে, যেটা অস্বাভাবিক। এ রকম কখনো আগে হয়নি। নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিভাগে খোঁজ নিয়ে আমাদের জানালেন, কোনো আসনেই দুই-তিন হাজারের বেশি হয়নি। আমরা এ ব্যাপারে তাদের কথায় সন্তুষ্ট হতে পারিনি। আমরা নিশ্চিত জানি, তাদের (ইসি) যারা তথ্য সরবরাহ করেছে, তারা সঠিক তথ্য সরবরাহ করেনি। প্রকৃতপক্ষে অনেক বেশি ভোটার মাইগ্রেশন হয়েছে। আমরা তাদের কাছে আসনভিত্তিক ভোটার মাইগ্রেশনের তথ্য জানতে চেয়েছি। আমার ধারণা, তাঁরা নিজেরাই এটা দেখবেন। আমরা চাইছি, এর মধ্যে যদি কোনো সন্দেহ করার মতো কিছু থাকে, নির্বাচন কমিশনের উচিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।’
এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এটাও দেখেছি, এমন হোল্ডিং নম্বর আছে, যেখানে কখনো চার-পাঁচজনের বেশি বসবাসই করেন না। সেখানে আমাদের কাছে ২০-৩০ জন ভোটার হওয়ার অভিযোগ এসেছে। আপনারা জানেন, কিছু লোক ভোটার আইডি, বিকাশ নম্বর—এগুলো নিয়ে কেলেঙ্কারি করেছে। তারাই সম্ভবত এ ধরনের ভুয়া ভোটার বা ভোটার মাইগ্রেশনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত। আমরা মনে করি, এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা যথাযথ হওয়া দরকার।’
বিএনসিসির সদস্যদের মোতায়েনের বিষয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা কমিশনকে জানিয়েছি, বিএনসিসির ক্যাডেটরা ছাত্র। তাদের নির্বাচনের কাজে প্রথমবারের মতো যুক্ত করার সিদ্ধান্ত আমরা শুনেছি। এটা এখনো চূড়ান্ত কিছু হয়নি হয়তো। আমরা কমিশনকে বলেছি, তরুণ ছাত্র তাদের সংসদ নির্বাচনের মতো জটিল রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা ঠিক হবে না। এ কাজে যুক্ত হলে তারা (ইসি) এবং প্রতিষ্ঠান বিতর্কিত হতে পারে। এটা করা হলে স্কাউটদেরকেও যুক্ত করা হোক—বলা হতে পারে। কদিন পর বলা হবে, গার্ল গাইডসদের যুক্ত করা হোক। আমরা মনে করি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বলে আইনে যাদের উল্লেখ রয়েছে, তাদের নির্বাচনের কাজে রাখা উচিত। তারা (ইসি) আমাদের কথার যৌক্তিকতা স্বীকার করেছেন। এ ব্যাপারে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আশ্বস্ত করেছে।’
শান্তি কমিটি গঠনের বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘কোনো দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনে বিভিন্ন এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার নামে শান্তি কমিটি গঠন করা হবে বলে শুনেছি। “শান্তি কমিটি” শব্দটাই আমাদের কাছে অপ্রিয়। যদিও আমরা শান্তিবাদী মানুষ। ইসি বলেছে, তাদের এ সম্পর্কে জানা নেই। এ ধরনের কমিটি করার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।’
ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচার বন্ধ থাকার বিষয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘কিছু রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা তাদের নির্বাচনী এলাকার বাইরে কাজ করছে। আইনে এটার কোনো বাধা নেই, করতে পারে। তারা যেন নির্বাচনের সময় বা নির্বাচনের দুদিন আগে সে এলাকা থেকে চলে যায়। সেখানে থেকে নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে বিশৃঙ্খলার কোনো সুযোগ না নেয়, সে জন্য আমরা অনুরোধ জানিয়েছি। তারা (ইসি) এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে বলেছে।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘এবার দেশি ৮১টি সংস্থার ৫৫ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষককে অনুমোদন দিয়েছে ইসি। বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান আছে, তেমন পরিচিত নয়। তাদের নামে অনেক পর্যবেক্ষক দেখেছি। আমাদের তাতে অভিযোগ নেই। ইসিকে জিজ্ঞেস করেছি, তারা বিষয়টা গভীরভাবে বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নাকি সাধারণ প্রক্রিয়ায় হয়েছে। তারা বিষয়টি বিবেচনা করবে বলেছে। পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে যাদের, তাদেরই পর্যবেক্ষণ করা উচিত। একসঙ্গে বেশি পর্যবেক্ষক গিয়ে নির্বাচনী কর্মকাণ্ড যেন ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকার বিষয়টি ইসিকে বলা হয়েছে।’
সিইসির সঙ্গে বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ, দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ প্রমুখ।