একসময়ের ক্ষমতাশালী ও সুরক্ষিত ভবন গণভবন এখন ছাত্র-জনতার বিপ্লবের সাক্ষী হিসেবে রূপ নিয়েছে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে’। আজ মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা জাদুঘরটি ঘুরে দেখেন। দুই ঘণ্টাব্যাপী এই পরিদর্শনে কূটনীতিকদের সামনে তুলে ধরা হয় শেখ হাসিনা সরকারের দীর্ঘ ১৬ বছরের দুঃশাসন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের খণ্ডচিত্র।
পরিদর্শনের শুরুতেই কূটনীতিকেরা ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের আন্দোলনে শহীদ হওয়া প্রায় ৪ হাজার মানুষের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। এরপর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী কূটনীতিকদের জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরিয়ে দেখান এবং এর পেছনের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেন।
উপদেষ্টা ফারুকী বলেন, ‘এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য হলো এমন দুঃশাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ করা। আমরা বিশ্বের অন্যান্য দেশের সমধর্মী জাদুঘরগুলোর সঙ্গেও সমন্বয় করে কাজ করব।’
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, জাদুঘরটি কেবল ৩৬ দিনের গণ-অভ্যুত্থানের চিত্র নয়, বরং গত ১৬ বছরের দুঃশাসনের সব উপাদান এখানে সংরক্ষিত হয়েছে। ইতিহাসের প্রকৃত শিক্ষা হলো—পুরোনো ভুলের পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করা।
জাদুঘরের প্রধান কিউরেটর তানজীম ওয়াহাব প্রদর্শিত বিভিন্ন নিদর্শনের বিস্তারিত কূটনীতিকদের সামনে তুলে ধরেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল মিলার জাদুঘর পরিদর্শনের পর নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, এটি অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক এবং একটি শক্তিশালী স্মারক। ইতিহাস বোঝা এবং কীভাবে একটি গণ-অভ্যুত্থান গড়ে ওঠে—তা জানার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা।
এই বিশেষ সফরে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ফ্রান্স, তুরস্ক, পাকিস্তান, নেপাল, আর্জেন্টিনা, ফিলিস্তিন, ইরানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ ছাড়া জাতিসংঘ, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, ফাও, বিমসটেক, আইওএমসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কান্ট্রি ডিরেক্টরেরা উপস্থিত ছিলেন।
এসডিজি-বিষয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদ, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম ও সংস্কৃতিবিষয়ক সচিব মো. মফিদুর রহমানও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার সাবেক সরকারি বাসভবন গণভবন রূপান্তরিত করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর তৈরি করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে জাদুঘরটির সফট ওপেনিং অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।