নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি পুরোনো হওয়ায় এর কার্যকারিতা হ্রাস পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ।
আজ সোমবার বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সভাকক্ষে নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরির উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি ১৫ বছরেরও বেশি পুরোনো হওয়ায় এর কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। নমুনা বিশ্লেষণের গুণগত মান, বিশুদ্ধতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত মেশিন ভ্যালিডেশন, ল্যাব কার্যক্রমের নিয়মিত অডিট এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এসওপি প্রণয়ন করা আবশ্যক। এ লক্ষ্যে প্রতিবছর ইন্টারনাল অডিট এবং দুই বছর অন্তর এক্সটার্নাল অডিট নিশ্চিত করার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ অডিট ম্যানুয়েল প্রণয়নের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
শারমীন মুরশিদ আরও বলেন, দেশের সব ফরেনসিক ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের ডিএনএ ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় একটি সমন্বিত ডেটাবেইসে সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে মামলার তথ্য ব্যবস্থাপনা ও বিচারিক প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হয়।
নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ও সেবা কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে ২০০৬ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেশের প্রথম আন্তর্জাতিক মানের ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীকালে এ সেবা দেশব্যাপী বিস্তৃত করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, ফরিদপুর ও ময়মনসিংহ—এই আটটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে।
উপদেষ্টা জানান, ২০০৬ সাল থেকে আগস্ট ২০২৫ পর্যন্ত ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি মোট ১১ হাজার ৫০১টি মামলার ৩৭ হাজার ৫৯২টি ডিএনএ নমুনা বিশ্লেষণ করে ৬ হাজার ৩৩৩টি মামলার রিপোর্ট প্রদান করেছে। যা ডিএনএ ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।
ডিএনএ ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শবনম মোস্তারী বলেন, সিআইডি হেডকোয়ার্টারের ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরি প্রায়ই অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভাগীয় ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবের মাধ্যমে মামলার নমুনা সংগ্রহ করে নিজস্ব ল্যাবে রিপোর্ট প্রস্তুত করলেও সে সংক্রান্ত তথ্য ডিএনএ অধিদপ্তর বা ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরির কাছে প্রদান করে না। এ কারণে একটি সমন্বিত ডেটাবেইসের আওতায় সব নমুনার তথ্য সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সভায় নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদের সভাপতিত্বে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাবৃন্দ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেনসিক বিভাগের অধ্যাপক, সিআইডি প্রতিনিধি এবং নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।