হোম > জাতীয়

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে ফিরল অলিখিত রেওয়াজ

শহীদুল ইসলাম, ঢাকা

দলের সাধারণ সম্পাদকের হাতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব রাখার অলিখিত রেওয়াজে ফিরল বিএনপি সরকার।

গতকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ মধ্যরাতে সব মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

এর ফলে এক দশকের বেশি সময় পর দলের সাধারণ সম্পাদকের হাতে ফিরল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। এর আগে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির সাধারণ সম্পাদকেরা এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর পদ থেকে সরানোর মধ্য দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দলের সাধারণ সম্পাদকের বাইরে অন্যদের রাখার প্রচলন শুরু হয়।

আওয়ামী লীগের প্রথম মেয়াদে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত দলটির সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।

২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন বিএনপির মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া।

সেনা-সমর্থিত এক-এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় নানা ঘটনাপ্রবাহের পর ২০০৯ সালে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। এরপর দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০১৪ সালে টানা দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়।

২০১৫ সালের ১৯ জুলাই সৈয়দ আশরাফকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে ওই সময়কার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বেয়াই খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব দেন। এর মধ্য দিয়ে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দলের সাধারণ সম্পাদককে না রাখার প্রথা তৈরি হয়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার আগে ওবায়দুল কাদের ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। সৈয়দ আশরাফকে বাদ দিয়ে দলীয় কাউন্সিলে ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেও ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ছিলেন তিনি।

২০১৮ সালে নির্বাচনে জেতার পর কুমিল্লা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য তাজুল ইসলামকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব দেন শেখ হাসিনা।

২০২৪ সালে নির্বাচনে জেতার পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর দায়িত্বে রাখেন শেখ হাসিনা। আগের মতোই তাজুল ইসলামকে দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং আদিলুর রহমান খান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন।

২০১৫ সালের ১৯ জুলাই সৈয়দ আশরাফকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরানোর মধ্য দিয়ে এই মন্ত্রণালয়ে দলের সাধারণ সম্পাদকের মন্ত্রিত্বে ছেদ পড়ে। মঙ্গলবার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে ১০ বছর ৬ মাস ২৯ দিন পর সাধারণ সম্পাদকের হাতে ফিরেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।

সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

বিকেলে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক, প্রস্তুত হচ্ছে সচিবালয়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ শাহবাজ শরিফের

কলেজে রমজান-ঈদ উপলক্ষে ছুটি শুরু, স্কুলে আরও পরে

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টনের প্রজ্ঞাপন জারি, কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে

নিজের হাতে এক মন্ত্রণালয় ও দুই বিভাগ রাখলেন তারেক রহমান

নতুন মুখ্য সচিব আব্দুস সাত্তার

আলোচনায় থেকেও জায়গা হলো না মন্ত্রিসভায়

মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ায় উচ্ছ্বাস, মিষ্টি বিতরণ