হোম > জাতীয়

খালেদা জিয়াকে নিয়ে শোকপ্রস্তাবে যা বললেন স্পিকার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে। দিনের কার্যসূচির শুরুতেই শোকপ্রস্তাব উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে যায় সংসদ।

আজ বৃহস্পতিবার স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মনোনয়ন এবং শোকপ্রস্তাব উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে সংসদের প্রথম দিনের কার্যক্রম সাজানো হয়। এর আগে জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে দিনের প্রথম ভাগে অধিবেশন শুরু হয়। পরে স্পিকার পদে হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ডেপুটি স্পিকার পদে কায়সার কামাল নির্বাচিত হন।

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর অধিবেশন কিছু সময়ের জন্য মুলতবি করা হয়। বিরতিতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান। পরে মাইক বিভ্রাট ও নামাজের বিরতির পর বেলা দেড়টার দিকে আবার অধিবেশন শুরু হয় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে। অধিবেশনের শুরুতে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মনোনয়ন দেওয়া হয়। এরপর সংসদে একে একে শোকপ্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।

প্রথম দিনের এই অধিবেশনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়াসহ দেশি বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তি, সাবেক রাষ্ট্রপতি, বহু সাবেক সংসদ সদস্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তি এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব আনা হয়।

বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে আনা দীর্ঘ শোকপ্রস্তাবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন, প্রশাসনিক ভূমিকা ও ব্যক্তিগত সংগ্রামের নানা দিক তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ‘তিনবারের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী’ এবং ‘জাতীয় সংসদের দুইবারের বিরোধীদলীয় নেতা’ ছিলেন।

তিনি ১৯৪৫ সালের ১৫ অগাস্ট দিনাজপুর জেলার জলপাইতলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ইস্কান্দার মজুমদার এবং মাতা তৈয়বা মজুমদার। ১৯৬০ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকো।

প্রস্তাবে বলা হয়, স্বামী জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর তিনি রাজনীতিতে আসেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে তিনি দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের প্রধান নেতাদের একজন হয়ে ওঠেন। ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে জয় এনে দিয়ে সরকার গঠন করেন খালেদা জিয়া। সে সময় তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম, মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় এবং দক্ষিণ এশিয়ার চতুর্থ নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন বলে শোকপ্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়।

তাঁর সরকারের সময় মেয়েদের শিক্ষার প্রসার, বিনামূল্যে বই বিতরণ, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি, স্কুলে টিফিনের ব্যবস্থা, ক্ষুদ্রঋণ ও নারীশিক্ষায় বিশেষ উদ্যোগের কথা প্রস্তাবে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বলা হয়, দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় কম্পিউটার চালু, রাস্তাঘাট নির্মাণ এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

শোকপ্রস্তাবে আরও বলা হয়, তাঁর শাসনামলে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায় এবং যমুনা নদীর ওপর দেশের অন্যতম বড় অবকাঠামো প্রকল্প যমুনা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রস্তাবে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের দুঃসময়ের কথাও উল্লেখ করা হয়।

সেখানে বলা হয়, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি মোট পাঁচবার কারাবরণ করেন। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এবং পরে শেখ হাসিনার সরকারের আমলে বিভিন্ন মামলায় তাঁকে কারাবন্দি রাখা হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগও তাঁকে দেওয়া হয়নি বলে শোকপ্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়।

এতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর বেগম খালেদা জিয়া সব ‘মিথ্যা মামলা’ থেকে মুক্ত হন। পরে বাকশক্তি হারালেও তাঁর চিন্তা, দর্শন, প্রতিভা, সংযম, প্রজ্ঞা, শান্তি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ার আকাঙ্ক্ষা জাতির জীবনে প্রেরণা হয়ে থাকবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়।

খালেদা জিয়াকে নিয়ে শোকপ্রস্তাবের শেষাংশে বলা হয়, ‘বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সর্বোপরি জননন্দিত সরকার প্রধান ছিলেন। রাষ্ট্র পরিচালনা ও জাতীয় রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক দিনের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।’

দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়ে ২০০১-এ বিদায় নেয় আওয়ামী লীগ: সংসদে রাষ্ট্রপতি

খালেদা জিয়া ও জুলাই শহীদ যোদ্ধাদের নিয়ে সংসদে আলোচনা

বিমানবন্দরের জরুরি উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণে বেবিচক–ফায়ার সার্ভিসের সমঝোতা

কার্য উপদেষ্টাসহ পাঁচ কমিটি গঠন

চব্বিশে সম্মিলিত আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে: রাষ্ট্রপতি

জাতীয় সংসদ হবে সব রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র: স্পিকার

সংসদে দর্শক গ্যালারিতে অধ্যাপক ইউনূস, জুবাইদা ও জাইমা রহমান

রাষ্ট্রপতির ভাষণের শুরুতেই বিরোধীদের হট্টগোল, ওয়াকআউট

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে চিফ হুইপের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা

নতুন মন্ত্রী হলেন আহমেদ আযম খান