সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইন চ্যালেঞ্জ করে এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রমের ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশনা চেয়ে করা রিটের শুনানি আপাতত হচ্ছে না। আজ সোমবার হাইকোর্টে রাষ্ট্রপক্ষ এ-সংক্রান্ত আগের একটি মামলায় শিগগির আপিল করার কথা জানিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইন চ্যালেঞ্জ করে গত রোববার সাতজন আইনজীবী এই রিট করেন। রিটে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রমের ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশনাও চাওয়া হয়। গতকাল দুপুরের পর রিটটি বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের বেঞ্চে শুনানির জন্য ওঠে। রিটের পক্ষে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
আদালত থেকে বের হয়ে শিশির মনির বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ বলেছেন তাঁরা দ্রুতই হাইকোর্টের আগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। আদালত বলেছেন, তারা (রাষ্ট্রপক্ষ) আপিল করুক। আদালতের প্রত্যাশা, সরকার যেন তড়িঘড়ি করে সুপ্রিম কোর্টের প্রতি সম্মান জানিয়ে সচিবালয়ের যে সেটআপ আছে, সেগুলোকে সরিয়ে না ফেলে। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, তিনি আদালতের প্রত্যাশা শুনেছেন এবং এটি কনভে করবেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা বলেছি আগের মামলা আপিল বিভাগে আপিল করার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। তাই ওই মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এটার শুনানি সমীচীন হবে না। আমরা শিগগির আপিল করব। আদালত বলেছেন মামলাটি কার্যতালিকায় থাকবে।’
এর আগে সাত আইনজীবীর রিটের পরিপ্রেক্ষিতে তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় করতে নির্দেশনা দিয়ে রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। গত বছর ওই রায়ের আলোকে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করে অধ্যাদেশ জারি করে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। পৃথক সচিবালয় গঠিত হওয়ার পর জনবল নিয়োগসহ ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়। তবে সম্প্রতি জাতীয় সংসদে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল পাস হয়। ওই সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইন চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন সাত আইনজীবী।
গণমাধ্যমকর্মীরা বেরিয়ে আসার পর শুনানি
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইন চ্যালেঞ্জ করে করা রিটটির শুনানির সময় নির্ধারণ করা ছিল বেলা সোয়া ২ টা। সে অনুযায়ী আদালত কক্ষে উপস্থিত ছিলেন গণমাধ্যমকর্মীরা। তবে রিট শুনানির আগে বেঞ্চ অফিসার সাংবাদিকদের এজলাস থেকে বাইরে যাওয়ার জন্য ইশারা দেন। এরপর গণমাধ্যমকর্মীরা বেরিয়ে আসার পর রিটটি শুনানির জন্য ডাকা হয়।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘আমি গণমাধ্যমকর্মীদের, তাঁদের স্বাধীন সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনো বাধা দেখি না। আমি চাই গণমাধ্যমকর্মীরা নির্বিঘ্নে কাজ করবেন। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের কাজ করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি যথাস্থানে উপস্থাপন করেছি।’
চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি থেকে আপিল বিভাগে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এরপর হাইকোর্ট বিভাগের কোনো কোনো বিচারকক্ষেও প্রবেশে বাধার সম্মুখীন হন গণমাধ্যমকর্মীরা। তাই শুনানিতে সাংবাদিকদের নির্বিঘ্নে প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে দুই দফা চিঠি দেওয়া হয়েছে। আইন, বিচার ও মানবাধিকারবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে এ চিঠি দেওয়া হয়। তবে বিষয়টির সুরাহা এখনো হয়নি।