দেশের গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে সাংবাদিকদেরও ‘যোদ্ধা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেছেন, গণতন্ত্রকে সুসংহত করা ও টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আজ সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় চিফ হুইপ বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর দেশ স্বৈরতন্ত্রের কবলে ছিল। এ সময় ছিল না মানুষের বাক্স্বাধীনতা, সংসদীয় সরকার ও আইনের শাসন। পরিবর্তিত নতুন পরিস্থিতিতে গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে আপনারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। আপনারা গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াইয়ে যোদ্ধা হতে পারেন।’
সাংবাদিকদের উদ্দেশে চিফ হুইপ বলেন, ‘আপনারা তাঁর (প্রধানমন্ত্রীর) পাশে থাকতে পারেন, উনি যতক্ষণ পর্যন্ত ভালো কাজ করবেন। আমি যদি ভালো কাজ করি, তাহলে পাশে থাকবেন এবং আমি যদি মন্দ কাজ করি বা অসুবিধা সৃষ্টি করি, তাহলে যৌক্তিক সমালোচনা করবেন এবং আমার ভুল ধরিয়ে দিবেন। আর সব মানুষেরই ভুল হতে পারে।’
মো. নূরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আপনারা এই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে একেকজন যোদ্ধা। মানুষের স্বাবলম্বী হওয়ার এই যুদ্ধে আপনারা শরিক হয়ে হয়তো (ব্যক্তিগতভাবে) কিছুই পাবেন না, কিন্তু কিয়ামতের মাঠে আল্লাহর কাছে তো বলতে পারবেন যে, আমি ওই যুদ্ধের একজন সদস্য (ছিলাম)।’
বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, বর্তমান সরকার ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে যাত্রা শুরু করার পরও দুই মাসের মাঝেই ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড বাস্তবায়নসহ মানুষের অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছে এবং সমস্যা নিরসনে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বিগত সরকারের কথা উল্লেখ করে বলেন, তারা সাতটি বাজেটের সমপরিমাণ টাকা এ দেশ থেকে পাচার করেছে।
চিফ হুইপ আরও বলেন, ‘চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষের কথা আপনারা সবাই জানেন। অভাবের তাড়নায় মানুষ অপর মানুষের বমি খেয়েছে। এ রকম অবস্থায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দায়িত্ব গ্রহণ করে তিন বছরের মাঝে খাদ্যে স্বাবলম্বী হয়ে বাংলাদেশ থেকে খাদ্য রপ্তানি করেন। এরপর বেগম জিয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি হাতে নিয়ে দেশকে স্বাবলম্বী করেন। একইভাবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বাবা-মায়ের দেখানো পথে হাঁটছেন।’
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ মো. জি কে গউছ, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ও মো. আখতারুজ্জামান মিয়া অংশ নেন। সভায় সংসদ বিটে দায়িত্ব পালনকারী সাংবাদিকেরা, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ পার্লামেন্ট জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হারুন জামিল ও সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী খান লিথো এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার নগর সম্পাদক মোরসালিন নোমানী বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রচার ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে আরও সহজীকরণ, গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও পরামর্শ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে সিনিয়র সাংবাদিকেরা চলমান নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রার ভূয়সী প্রশংসা করেন।