খুলনার দৌলতপুর ডিপো থেকে রাজশাহী ও নাটোর রেলওয়ের প্রধান ডিপোতে দেড় মাস ধরে ডিজেল সরবরাহ বন্ধ। এই কারণে উত্তরাঞ্চলের চার কৃষিনির্ভর জেলা রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর ও নওগাঁয় তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এতে রাষ্ট্রায়ত্ত পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল কোম্পানির শতাধিক ডিলার-এজেন্ট বিপাকে পড়েছেন এবং বাড়তি খরচে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আনতে বাধ্য হচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে নাটোরের চলতি বোরো মৌসুমে সেচ কার্যক্রম নিয়ে, যেখানে সংকট দ্রুত সমাধানের দাবি উঠেছে।
রাজশাহী ও নাটোরের প্রধান ডিপোতে জ্বালানি তেল না পাঠানোর কথা নিশ্চিত করেছেন জ্বালানি সরবরাহকারী বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তিন অঙ্গপ্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির খুলনার দৌলতপুর ডিপোর ইনচার্জরা।
বিপিসি সূত্র জানায়, রাজশাহী ও নাটোর রেলওয়ের প্রধান ডিপোতে জ্বালানি তেল (শুধু ডিজেল) পাঠানো হয় খুলনার দৌলতপুর ডিপো থেকে। সরকারি তিন বিপণন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির ১০টি করে মোট ৩০ ওয়াগনে সপ্তাহে ১০-১৫ লাখ লিটার ডিজেল পাঠানো হয়ে থাকে। এরপর ডিলাররা সরাসরি রেলওয়ের ওয়াগন থেকে তেল ডেলিভারি নিয়ে থাকেন। কিন্তু দেড় মাস ধরে সরকারি তিন প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির কোনো তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না।
পদ্মা অয়েলের খুলনার দৌলতপুর ডিপো ইনচার্জ মো. দিদারুল আলম বলেন, প্রায় দেড় মাস ধরে রাজশাহী ও নাটোর রেলওয়ের প্রধান ডিপোতে জ্বালানি তেল পাঠানো হচ্ছে না। কারণ হিসেবে তিনি জানান, হেড অফিসের সিদ্ধান্ত। সর্বশেষ রাজশাহী রেলওয়ের প্রধান ডিপোতে ২৫ ফেব্রুয়ারি এবং ২০ ফেব্রুয়ারি নাটোর রেলওয়ের প্রধান ডিপোতে জ্বালানি তেল পাঠানো হয়েছিল। এরপর আর কোনো পার্সেল পাঠানো হয়নি।
একই কথা জানান যমুনা ও মেঘনা অয়েলের দৌলতপুর ডিপোর ইনচার্জরা।
নাটোরে সেচ বিপর্যয়ের শঙ্কা: চলনবিল-অধ্যুষিত নাটোরে বোরো আবাদে সেচ বিপর্যয়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জেলায় প্রায় আড়াই কোটি লিটার ডিজেল চাহিদার বিপরীতে ঘাটতিজনিত সরবরাহ জটিলতায় প্রয়োজনমতো ডিজেল পাচ্ছেন না চাষিরা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলায় ৫৭ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ডিজেলের চাহিদা ২ কোটি ৪৬ লাখ ৪৩ হাজার ৫১৪ লিটার।
মঙ্গলবার দুপুরে কথা হয় নলডাঙ্গা ও সিংড়ার কয়েকজন বোরো ধানচাষির সঙ্গে। নলডাঙ্গার পূর্ব সোনাপাতিল গ্রামের আসাদুজ্জামান জানান, যখন সেচ দরকার, তখনই তেলের সরবরাহ নেই। সেচ দিতে না পারলে আবাদ নষ্ট হবে।
মেসার্স নাসির উদ্দীন এজেন্সির স্বত্বাধিকারী সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তেল সরবরাহ ঠিকমতো পাচ্ছি না। কৃষকেরা এসে ফিরে যাচ্ছেন। তেল দিতে না পেরে দোকান বন্ধ রাখতে হচ্ছে।’
খরচ বেড়েছে ৩ গুণ
আগে রাজশাহীর রেলওয়ে ডিপোতে আসা তেলই নিতে পারতেন ফিলিং স্টেশনের মালিকেরা। এখন এখানে তেল না থাকায় তাঁদের সড়কপথে তেল আনতে হচ্ছে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী ডিপো থেকে। এতে তাঁদের খরচ প্রায় ৩ গুণ বেড়েছে।
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার হাটগাঙ্গোপাড়ায় অবস্থিত মেসার্স গাঙ্গোপাড়া ফিলিং স্টেশনের মালিক সারোয়ার জাহান সবুর জানান, রেলস্টেশন লাগোয়া ডিপো থেকেই তেল নিয়ে যেতেন। এতে তাঁদের খরচ কম হতো। এখন তেলবাহী লরিতে করে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী ডিপো থেকে সড়কপথে তেল আনতে হচ্ছে। এতে খরচ বেড়েছে।
[প্রতিবেদনে সহায়তা করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও নাটোর প্রতিনিধি]