মন্ত্রী হলেন যশোরের তরুণ রাজনীতিবিদ অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন এই নেতা। তিনি মন্ত্রিপরিষদে স্থান পাওয়ায় যশোরের মানুষের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে।
অনিন্দ্য ইসলাম বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগমের ছোট ছেলে। রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা অনিন্দ্য নিজেও দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক।
রাজনৈতিক উত্তরাধিকার হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়া অনিন্দ্য ইসলামের বর্ণাঢ্য শিক্ষাজীবন ও পারিবারিক ঐতিহ্য আছে। যশোর শহরের ঘোপ এলাকায় তাঁর জন্ম। তাঁর মা নার্গিস বেগম যশোর সরকারি সিটি কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ। যশোর শহরের ইনস্টিটিউট প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষার হাতেখড়ি। পরে তিনি যশোরের দাউদ পাবলিক স্কুল ও সেক্রেড হার্ট জুনিয়র হাইস্কুলে অধ্যয়ন করেন, সেখান থেকে প্রাথমিকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পান। ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে যশোর বোর্ডে সম্মিলিত মেধাতালিকায় স্থানসহ মাধ্যমিক (এসএসসি) ও উচ্চমাধ্যমিকে (এইচএসসি) উত্তীর্ণ হন।
উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগে ভর্তি হন অনিন্দ্য। সেখান থেকে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বপূর্ণ গ্রেডসহ এমবিএ কোর্স সম্পন্ন করেন। তাঁর সহধর্মিণী সোহানা পারভীনও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট। তাঁদের দুই ছেলে।
রাজনীতিতে অনিন্দ্য ইসলামের পথচলা মসৃণ ছিল না। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করার সময়ে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁর বিরুদ্ধে দেড় শতাধিক মামলা করা হয়। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তিনি যশোর, ঢাকা ও নড়াইলে সাতবার কারাবরণ করেন। এমনকি তাঁর বাড়ি ও গাড়িতে একাধিকবার হামলা হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রাজপথে তাঁর সর্বাত্মক অংশগ্রহণ ছিল।
রাজনীতির বাইরেও একজন সফল উদ্যোক্তা ও সমাজ সেবক হিসেবে অনিন্দ্য ইসলামের সুখ্যাতি আছে। পেশাগত জীবনে তিনি একজন রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী। তিনি যশোর শহরের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ‘ল্যাবস্ক্যান মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেডের’ প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এ ছাড়া যশোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক ‘লোকসমাজ’ পত্রিকার একজন পরিচালক।
করোনা মহামারির সময় ব্যক্তিগত উদ্যোগে যশোরে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম গড়ে তোলেন অমিত এবং অক্সিজেন সিলিন্ডার, ওষুধ ও খাবার নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ান, যা দেশব্যাপী প্রশংসিত হয়। তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, যশোর ইনস্টিটিউট, যশোর প্রেসক্লাব ও যশোর চেম্বার অব কমার্সসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।
অনিন্দ্য ইসলাম ছাত্রজীবনে আবৃত্তি, বিতর্ক ও নাট্যাভিনয় করতেন। ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের হয়ে টেলিভিশন বিতর্কে অংশ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। বর্তমানে তিনি জিয়া স্মৃতি পাঠাগার কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
যশোর-৩ (সদর) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত এই তরুণ নেতার প্রতিমন্ত্রী হওয়ার খবরে যশোরজুড়ে আনন্দের বন্যা বইছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, বাবার মতোই তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।