স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, এবার যদি কোথাও কেন্দ্র দখল হয়, কেউ ছাড় পাবে না। কেন্দ্র দখল যেন না হয়, সে জন্য কেন্দ্রে লাগানো হচ্ছে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং পুলিশকে প্রায় ২৬ হাজার বডি-ওর্ন ক্যামেরা দেওয়া হচ্ছে। ব্যবহার হবে ড্রোনও।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সাহাব উদ্দিন মিলনায়তনে আজ সোমবার বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে বিভাগীয় প্রশাসনের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা-বিষয়ক প্রস্তুতি সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন উপদেষ্টা।
এ সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘কেন্দ্র দখল যেন না হয়, সে জন্য এবার সিসিটিভি ক্যামেরা কেন্দ্রে লাগানো হচ্ছে, পুলিশকে ২৫ হাজার ৭০০ বডি ক্যামেরা দিচ্ছি, ড্রোন ব্যবহার করছি। এরপরও যদি কেউ কোনো রকম এদিক-সেদিক করতে যায়, তাহলে কেউ ছাড় পাবে না। সে ভাই হোক বা বোন হোক, তার ছবি এখানে থেকে যাবে,৩-৪ দিন পর হোক বা ৬ মাসের জন্য জামিন নিয়ে আসুক, জামিনের পরে হলেও সে ধরা খাবে।’
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচনসংক্রান্ত একটি মতবিনিময় সভা করেছি আমরা। এতে সেনাবাহিনী, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সবাই ছিল। এতে আমরা বিভিন্ন সমস্যাগুলো আলোচনা করেছি। তাদের প্রস্তুতি বিষয়ে আলোচনা করেছি। তাদের প্রস্তুতি বেশ ভালো ও প্রশংসনীয়। তারা জাতিকে একটি ভালো নির্বাচন উপহার দিতে পারবে, এটা আমাদের বিশ্বাস।’
অবৈধ অস্ত্রের কথা স্বীকার করে মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। তবে তৎপরতায় উদ্ধার বাড়ছে। সবার সহযোগিতায় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, শেরপুরের ঝিনাইগাতীর মতো ঘটনা আরও কোথাও হবে না। সেই লক্ষ্যে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা। ঝিনাইগাতীর ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। এর জন্য যারা দায়ী, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। তবে এ ধরনের ঘটনার পর জড়িত ব্যক্তিরা এলাকায় থাকে না, তারা দূরে চলে যায়। এ জন্য অনেক ক্ষেত্রে একটু সময় লাগে, তবে তাদের সবাইকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে আমরা সাংবাদিকদের পোলিং সেন্টারে ঢোকার জন্য অনুমতি দিয়ে দিয়েছি। এতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার কোনো ধরনের আশঙ্কা নেই।’