মা খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভার আটজনসহ অভিজ্ঞ নয়জনের সঙ্গে ৪০টি নতুন মুখ নিয়ে নিজের মন্ত্রিসভা সাজিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি নিজেও প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রিত্বের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন।
জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এর আগে সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।
নতুন মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। মন্ত্রীদের মধ্যে ১৬ জনই নতুন আর প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে সবাই প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভায় এলেন। মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট সদস্য হিসেবে রয়েছেন পূর্ণ মন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
অভিজ্ঞতা রয়েছে ৯ জনের
প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এমন আটজন অভিজ্ঞকে নিজের পাশে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়া আরেকজনের আছে মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতা।
পুরোনো মন্ত্রীদের মধ্যে এবারের মন্ত্রিসভায় রয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যিনি ২০০১ সালে (অষ্টম সংসদ) প্রথম ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সেবার খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় প্রথমে কৃষি প্রতিমন্ত্রী এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অষ্টম সংসদে খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ অষ্টম সংসদে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী ও পরে পূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন।
আরেক মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিএনপির বিভিন্ন মন্ত্রিসভায় বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, পানিসম্পদমন্ত্রী, পাটমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এরশাদ ও খালেদা জিয়া সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রিসভায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতীয় পার্টির মনোনয়ন নিয়ে ১৯৮৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৯০ সালের ২ মে থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে তিনি বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০০২ থেকে এক বছর পুনরায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পুরোনো মন্ত্রীদের মধ্যে নিতাই রায় চৌধুরী ১৯৮৮ সালে মাগুরা-২ আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দায়িত্ব পালন করেন মন্ত্রীর মর্যাদায় মাগুরা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে। এরপর তিনি ১৯৯০ সালের ২ মে থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং এরপর থেকে ওই বছরের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ সরকার পতনের আগপর্যন্ত যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ভাইস চেয়ারম্যানের পদ পাওয়া নিতাই রায় চৌধুরী ২০০১, ২০০৮ এবং ২০১৮ সালে বিএনপির হয়ে নির্বাচন করলেও জিততে পারেননি।
বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক আ ন ম এহছানুল হক মিলন চাঁদপুর-১ আসন থেকে মোট তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরীক্ষায় নকল করার সংস্কৃতি দমনে তাঁর রয়েছে সুখ্যাতি। আরেক মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ছিলেন।
পূর্ণ মন্ত্রীদের মধ্যে নতুন মুখ ১৭
তারেক রহমানসহ পূর্ণ মন্ত্রীদের মধ্যে নতুন মুখ ১৭টি। এর মধ্যে রয়েছেন এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আবদুল আউয়াল মিন্টু, মিজানুর রহমান মিনু, খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, আফরোজা খানম রিতা, মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের, দীপেন দেওয়ান, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল, ফকির মাহবুব আনাম ও শেখ রবিউল আলম।
প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে সবাই নতুন
প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া ২৪ জনের সবাই প্রথমবার মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন। তাঁর হলেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মো. শরীফুল আলম, শামা ওবায়েদ ইসলাম, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশিদ, মো. রাজীব আহসান, মো. আব্দুল বারী, মীর শাহে আলম, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন, শেখ ফরিদুল ইসলাম, ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেইন, এম এ মুহিত, আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ ও আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।
বিএনপির নির্বাচনী জোটের শরিক গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি) ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ডাকসুর সাবেক ভিপি মো. নুরুল হক নুরও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় এসেছেন।
প্রথমবার এমপি হয়েই মন্ত্রিসভায়
প্রথমবার সংসদ নির্বাচনে জিতেই মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। তিনি পটুয়াখালী-৩ গলাচিপা আসন থেকে নির্বাচিত হন। এ ছাড়া ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-ছাগলনাইয়া) থেকে নির্বাচিত আবদুল আওয়াল মিন্টু, সিলেট-১ থেকে খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, সিলেট-৩ থেকে আরিফুল হক চৌধুরী, মানিকগঞ্জ-৩ থেকে আফরোজা খান রিতা, রাঙামাটি থেকে দীপেন দেওয়ান, ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) থেকে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, টাঙ্গাইল-১ থেকে ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, ঢাকা-১০ থেকে শেখ রবিউল আলম, যশোর-৩ থেকে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, কিশোরগঞ্জ-৬ থেকে মো. শরীফুল আলম, ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) থেকে শামা ওবায়েদ, টাঙ্গাইল-৫ থেকে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, নেত্রকোনা-১ থেকে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, পঞ্চগড়-২ থেকে নির্বাচিত ফরহাদ হোসেন আজাদ, চট্টগ্রাম-৫ থেকে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ঢাকা-৯ থেকে হাবিবুর রশিদ, বরিশাল-৫ থেকে রাজিব আহসান, জয়পুরহাট-২ থেকে মো. আব্দুল বারী, বগুড়া-২ থেকে মীর শাহে আলম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ থেকে মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি, ঢাকা-৬ থেকে ইশরাক হোসেন, নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) থেকে ফারজানা শারমিন, বাগেরহাট-৩ থেকে শেখ ফরিদুল ইসলাম, ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) থেকে ইয়াসের খান চৌধুরী, ময়মনসিংহ-৩ থেকে এম ইকবাল হোসেন, সিরাজগঞ্জ-৬ থেকে এম এ মুহিত, পিরোজপুর-২ থেকে আহমেদ সোহেল মনজুর ও ঢাকা-১৩ থেকে নির্বাচিত এনডিএম সভাপতি ববি হাজ্জাজ।