ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে এসব দেশে থাকা বাংলাদেশের দূতাবাস। একই সঙ্গে সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় প্রবাসীদের নিজ নিজ বাসা বা নিরাপদ স্থানে অবস্থানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কুয়েত, ওমান, কাতার ও বাহরাইন বাংলাদেশের বড় শ্রমবাজার এবং প্রবাসী আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। দেশ থেকে প্রতিবছর ৫ থেকে ৭ লাখ কর্মী মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যান। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এই শ্রমবাজার অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
কাতারের দোহার বাংলাদেশ দূতাবাস গতকাল শনিবার দেশটিতে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি সতর্কবার্তায় বলেছে, নিরাপত্তার স্বার্থে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামরিক স্থাপনার আশপাশ থেকে দূরে থাকতে হবে এবং নিজ নিজ বাসা বা নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের অতি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার এবং সব সময় কিছু জরুরি জিনিসপত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নগদ অর্থ, কাতারের আইডি, হেলথ কার্ড, প্রয়োজনীয় ওষুধ, মোবাইল চার্জার এবং শুকনা খাবার।
দূতাবাস বলেছে, প্রবাসীদের কাতারের প্রচলিত আইন মেনে চলতে হবে এবং কাতার সরকারের জারি করা নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কিত ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা কাতারের আইনের পরিপন্থী হতে পারে।
কোনো জরুরি প্রয়োজনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দূতাবাসের হটলাইন নম্বর +৯৭৪ ৩৩৬৬২০০০-এ যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া mission.doha@mofa.gov.bd ইমেইলেও যোগাযোগ করা যাবে।
বাহরাইনের রাজধানী মানামায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসও প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছে। দূতাবাসের জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে বাহরাইনে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিজ নিজ বাসা বা নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া তাঁদের বাইরে বের না হতে অনুরোধ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনা করে নগদ অর্থ, সিপিআর (সেন্ট্রাল পপুলেশন রেজিস্টার কার্ড), প্রয়োজনীয় ওষুধ, শুকনা খাবার, মোবাইল চার্জারসহ জরুরি সামগ্রী কাছে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে প্রবাসীরা দূতাবাসের হেল্পলাইন নম্বর +৯৭৩ ৩৩৩৭৫১৫৫-এ যোগাযোগ করতে পারবেন। এ ছাড়া mission.manama@mofa.gov.bd ইমেইলেও যোগাযোগ করা যাবে।
শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তার শঙ্কা
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশের শ্রমবাজার অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকেরা। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশ থেকে সবচেয়ে বেশি কর্মী গেছেন সৌদি আরবে, ৭ লাখ ৫২ হাজার ৭১৫ জন। একই সময়ে কাতারে গেছেন ১ লাখ ৭ হাজার ৪৭২ জন এবং কুয়েতে গেছেন ৭২ হাজার ৭১৭ জন বাংলাদেশি কর্মী।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইয়েমেন যুদ্ধ, সিরিয়ার অস্থিরতা এবং গাজা সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। এতে অনেক দেশ বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ কমিয়ে স্থানীয় কর্মীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনীতিতেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে কর্মরত লাখো প্রবাসী শ্রমিকের জীবন-জীবিকাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।