হোম > জাতীয়

শিক্ষা খাত: নতুন সরকারের কাঁধে শিক্ষা পুনর্গঠনের দায়িত্ব

রাহুল শর্মা, ঢাকা

শিক্ষায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, শিক্ষাক্রম যুগোপযোগী করা ও তার কার্যকর বাস্তবায়ন, স্তরভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং অনিয়ম-দুর্নীতি কমানোই নতুন সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদেরা। তাঁদের মতে, বিদ্যমান চিহ্নিত সংকটগুলো সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার মাধ্যমে শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তন আনা সম্ভব। কার্যত নতুন সরকারের কাঁধে এখন শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনেরই গুরুদায়িত্ব।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের শাসনের পর এসেছে নিয়মিত নির্বাচিত সরকার। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আ ন ম এহসানুল হক মিলনকে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাজ করার পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে পরীক্ষায় নকল বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে আলোচিত হয়েছিলেন তিনি। এমন প্রেক্ষাপটে শিক্ষাবিদদের আশা, এবার শিক্ষা খাতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হবে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার নতুন শিক্ষাক্রম বাতিল করে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে যায়। শিক্ষাবিদদের মতে, সেই শিক্ষাক্রমও পুরোপুরি সময়োপযোগী নয়। একই সময়ে গত দেড় বছরে শিক্ষা খাতে শৃঙ্খলার ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সচিবালয়ের ভেতরে শিক্ষার্থীদের নজিরবিহীন বিক্ষোভের মুখে এইচএসসি ও সমমানের স্থগিত পরীক্ষা বাতিল এবং পরবর্তী সময়ে ‘ভিন্ন পদ্ধতিতে’ ফল প্রকাশ করার মতো ঘটনা শিক্ষাব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ঢাকার ৭ বড় সরকারি কলেজের একীভূত করার প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘসময় এদের শিক্ষার্থীরা রাজপথে কাটায়।

এ ছাড়া টানা গত দুই শিক্ষাবর্ষে বছরের শুরুতে সব শিক্ষার্থীর হাতে বিনা মূল্যের পাঠ্যবই পৌঁছায়নি। অপ্রতুল বাজেট, শিক্ষক সংকট, ঝরে পড়ার উঁচু হার, কারিগরি শিক্ষার দুরবস্থা এবং উচ্চশিক্ষায় গুণগত মানের ঘাটতি পুরোনো সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে।

শিক্ষা নিয়ে নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা সম্পর্কে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা গণশিক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা রাশেদা কে চৌধূরী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘শিক্ষাক্ষেত্রে চলমান অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা দূর করাই নতুন সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে এনে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

শিক্ষায় বরাদ্দ বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, ‘অর্থনীতি ভঙ্গুর থাকলে শিক্ষায় বড় বিনিয়োগ সম্ভব নয়। দুর্নীতির কারণে জিডিপির উল্লেখযোগ্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে লাগাম টানা গেলে সেই অর্থ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করা যেতে পারে।’

তরুণদের বেকারত্ব কমাতে কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও জোর দেন রাশেদা চৌধূরী। তিনি বলেন, ‘কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ বেকারত্ব কমাতে কর্মমুখী শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।’

শিক্ষাক্রম ও শিক্ষা নীতির ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইআরই) অধ্যাপক এস এম হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বিদ্যমান নীতিমালা ও শিক্ষাক্রম অনেকাংশে পুরোনো হয়ে গেছে। শিক্ষা কমিশন গঠন করে পুরো শিক্ষা খাত পর্যালোচনা করে যুগোপযোগী সংস্কার আনতে হবে।’

এস এম হাফিজুর রহমান আরও বলেন, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা হারিয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষায় অনিয়ম ও দুর্নীতি বাড়ছে। এসব সমস্যা দূর করতে শিক্ষা খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।

প্রয়োগমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে হাফিজুর রহমান বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়নে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা বাড়াতে হবে। মাধ্যমিক পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষাকে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমেদের মতে, শিক্ষা খাতে সামগ্রিক খাত পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা খাতকে কোথায় নেওয়া হবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট রূপরেখা প্রয়োজন। মাধ্যমিক শিক্ষা সর্বজনীন করার লক্ষ্যে পরিকল্পিত উদ্যোগ নিতে হবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার পূরণেও কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।

শিক্ষার মান ও বৈষম্যকে বর্তমানের বড় সমস্যা উল্লেখ করে অধ্যাপক মনজুর শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ এবং কাজের পরিবেশ উন্নয়নে মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার তাগিদ দেন। তাঁর মতে, নতুন শিক্ষাক্রম তৈরি করার চেয়ে বিদ্যমান শিক্ষাক্রম যুগোপযোগী করে তার কার্যকর বাস্তবায়নে জোর দেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

অধ্যাপক মনজুর আহমেদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে অন্তত শিক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগের প্রত্যাশা ছিল, তবে তা পূরণ হয়নি। এখন এই গুরুদায়িত্ব নতুন সরকারের কাঁধে চেপেছে। তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, দক্ষতাভিত্তিক মূল্যায়ন ও গবেষণামুখী পাঠক্রম এখন সময়ের দাবি। এসব পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকারের তালিকায় আনতে না পারলে এর নানামুখী সংকট কাটবে না।

শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণ শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনার পরিবেশ সৃষ্টি, জাতীয় কারিকুলাম (পাঠ্যক্রম) পর্যালোচনা এবং কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়ন—এই তিন বিষয়কে অগ্রাধিকার ঘোষণা করেছেন। গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘একসময় দেশে মব হয়েছে, শিক্ষার্থীরা অটোপাস নিয়েছে। এ সংস্কৃতিতে আর ফিরে যাবে না দেশ।’

ঢাকা-দিল্লি বরফ গলছে

সংসদের প্রথম অধিবেশন ১২ মার্চ বা দুই-এক দিন আগে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আজকের ছেলেমেয়েরা ইনকিলাব বলে, ইনকিলাব তো অন্যদের ভাষা: বিদ্যুৎমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ

আনসার-ভিডিপি একাডেমিতে দেশের সর্বোচ্চ পতাকা-স্তম্ভ উদ্বোধন

মোংলা বন্দরে ১৮০ দিনের মধ্যে আমূল পরিবর্তন আনা হবে: নৌপরিবহনমন্ত্রী

ঈদের আগে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী দেবে সরকার

ওয়েজ বোর্ড সময়োপযোগী করা হবে: তথ্যমন্ত্রী

আলাদা শপথের দরকার নেই, গণভোট সংসদে কার্যকর হবে: শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি

শহীদদের আত্মত্যাগ চিরকাল জাতিকে অনুপ্রাণিত করবে: মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম