বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খতিবজাদেহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামের ফাঁকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষ উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বৈঠককালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের ধারাবাহিক ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান এবং মতপার্থক্য নিরসনে সংলাপ ও কূটনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের এই গঠনমূলক অবস্থানের প্রশংসা করেন এবং সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তেহরান সফরের আশা প্রকাশ করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান, যেন তিনি তাঁর সদিচ্ছা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’কে নিরাপদে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সুযোগ করে দেন। খলিলুর রহমান উল্লেখ করেন, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া ছয়টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করায় আমরা ইরানের প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।’
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কাজ করেন এবং গতকাল রোববার রাতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করেন, পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দুই মন্ত্রী নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছেন।
এর আগে, ২০২৬ সালের ৫ এপ্রিল ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রহিমি জাহানাবাদির সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি বাংলার জয়যাত্রাসহ আরেকটি বাংলাদেশগামী অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে সহায়তা চান। রাষ্ট্রদূত জানান, এ বিষয়ে যথাযথ পর্যায়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রদূত বর্তমান সংকটকালে বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের প্রশংসা করেন। তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ডের পর ১৩তম সংসদের প্রথম অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করায় বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয়) ড. মো. নজরুল ইসলাম ইরান দূতাবাসে গিয়ে শোক বইতে স্বাক্ষর করার জন্য মনোনয়ন দেওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এ ছাড়া, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম ইরানে পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগের প্রশংসাও করেন ইরানের রাষ্ট্রদূত। ওই বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ইরান থেকে আজারবাইজানে ১৮৬ জন বাংলাদেশির নিরাপদ স্থানান্তরে সহযোগিতা দেওয়ার জন্য তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।