যশোরে সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নতুন প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। নারীদের রান্নাবান্নার কষ্ট লাঘবে এলপিজি কার্ড প্রদান এবং বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
আজ সোমবার যশোরে খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশের নারী সমাজের কষ্টের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘মা-বোনদের রান্নাবান্নায় খুব কষ্ট হয়। আমরা ইতিমধ্যে সারা দেশে মা-বোনদের ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিচ্ছি। এখন আমরা আরেকটি বিশেষ কার্ড পৌঁছে দিতে চাই, সেটি হবে এলপিজি কার্ড।’
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, গ্রামের হোক বা শহরের—সব মা-বোনের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে যাতে রান্নার জ্বালানি নিয়ে তাঁদের আর কোনো দুশ্চিন্তা বা শারীরিক কষ্ট করতে না হয়।
কৃষকদের উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী কৃষক কার্ডের সুবিধা ও কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা করেন। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশের শিল্প খাতের স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা কলকারখানাগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, আগামী দুই-চার মাসের মধ্যেই বন্ধ থাকা কলকারখানাগুলো চালু করা সম্ভব হবে। কলকারখানা চালু হলে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং দেশের অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এর আগে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে উড্ডয়ন করে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট। সকাল সোয়া ১০টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী ফ্লাইটটি যশোর বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে রয়েছে—শার্শা উপজেলার উলাশীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত উলাশী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখননকাজের উদ্বোধন; পুনঃখননস্থলে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে যোগদান; বেলা সোয়া ১টায় যশোর শহরে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন; বেলা দেড়টায় যশোরের প্রায় ২০০ বছরের প্রাচীন ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন; যশোর সার্কিট হাউসে নামাজ ও দুপুরের খাবারের বিরতির পর বেলা সাড়ে ৩টায় যশোর ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেন। সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশে যশোর ছাড়বেন তিনি।