পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, উসকানিমূলক বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে র্যাবের সাইবার মনিটরিং টিম সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক কর্নেল ইফতেখার আহমেদ।
আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল পরিদর্শনকালে ইফতেখার আহমেদ এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি ঈদকে ঘিরে গৃহীত সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
ইফতেখার আহমেদ বলেন, ঈদ সামনে রেখে দেশব্যাপী গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং প্রতিটি ব্যাটালিয়ন তাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন রেখেছে। পাশাপাশি কন্ট্রোল রুম, স্ট্রাইকিং রিজার্ভ, ফুট ও মোবাইল প্যাট্রল, চেকপোস্ট, অবজারভেশন পোস্ট, ভেহিক্যাল স্ক্যানার এবং সিসিটিভি মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
বিশেষ করে বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, লঞ্চ টার্মিনাল, ফেরিঘাট ও গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলে বাড়তি নজরদারি রাখা হয়েছে; যাতে ঘরমুখী যাত্রীরা নিরাপদে যাতায়াত করতে পারেন। টিকিট নিয়ে কোনো ধরনের কারসাজি বা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।
এদিকে রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঈদগাহগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জাতীয় ঈদগাহ, শোলাকিয়া ঈদগাহ এবং দিনাজপুর বড় ঈদগাহে নিরাপত্তা সুইপিং, সিসিটিভি নজরদারি ও পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হচ্ছে।
ঈদের ছুটিতে মানুষ বাড়ি যাওয়ায় ফাঁকা বাসাবাড়ি, অফিস ও শপিং মলগুলোতে চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধেও র্যাবের টহল বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, উসকানিমূলক বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে র্যাবের সাইবার মনিটরিং টিম সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে।
র্যাবের মহাপরিচালক বলেন, আগের বছরগুলোর মতো এবারও উৎসবমুখর পরিবেশে দেশের মানুষ ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারবে। এ জন্য সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
র্যাব ছাড়াও সারা দেশে মার্কেট, ঈদগাহ এবং আবাসিক এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ইউনিফর্ম পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন বিভিন্ন ঈদগাহ এলাকায় কাজ করছেন।