বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোর জন্য এভিয়েশন সিকিউরিটি এভসেক (AVSEC) সংক্রান্ত রেগুলেটরি প্রয়োজনীয়তা ও তদারকি বিষয়ে সম্যক ধারণা দিতে তিন দিনব্যাপী কর্মশালা আয়োজন করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
৫ থেকে ৭ এপ্রিল বেবিচক সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় বাংলাদেশে পরিচালনাকারী বিদেশি অপারেটরদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বেবিচক সূত্র জানায়, ‘সাপ্লিমেন্টারি স্টেশন প্রসিডিউর (এসএসপি)’ প্রস্তুতি বিষয়ক এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোকে দেশের বিদ্যমান নিরাপত্তা বিধি-বিধান, তদারকি কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক মান অনুসরণের বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা প্রদান করা।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী অপারেটরদের এসএসপি প্রণয়ন, জমা, পর্যালোচনা ও অনুমোদন প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করা হয়, যাতে তাঁরা সহজেই বেবিচকের নির্ধারিত নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে নিজেদের কার্যক্রম সামঞ্জস্য করতে পারেন।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল। তিনি বলেন, এসএসপি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর অভ্যন্তরীণ মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার হবে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অডিটে কমপ্লায়েন্স অর্জন সহজ হবে।
কর্মশালার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উপপরিচালক (চীফ এভসেক ইন্সপেক্টর) এবং আইকাও অডিটর মোহাম্মদ আলমগীর। এছাড়া আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক (এভসেক পলিসি অ্যান্ড সার্টিফিকেশন) ইফতেখার জাহান হোসেন, সিনিয়র কনসালটেন্ট গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব.) খান শাহীনুল বারি এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম।
এই কর্মশালায় বাংলাদেশে কার্যরত ৩৬টি বিদেশি এয়ারলাইন্সের ৬৫ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা প্রোগ্রাম (এসসিএএসপি) অনুযায়ী, দেশে পরিচালনাকারী সব বিদেশি অপারেটরের জন্য প্রতিটি স্টেশনের জন্য এসএসপি প্রণয়ন ও বেবিচকের অনুমোদন গ্রহণ বাধ্যতামূলক। এ প্রক্রিয়া সহজ করতে বেবিচক একটি ‘মডেল এসএসপি’ প্রণয়ন করেছে, যা অপারেটরদের জন্য কার্যকর দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও) আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশে বিমান নিরাপত্তা বিষয়ক অডিট পরিচালনা করবে। এই প্রেক্ষাপটে আয়োজিত কর্মশালাটি কেবল প্রস্তুতির অংশ নয়, বরং দেশের বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।