রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আজ থেকে শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন। সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই প্রথম ডিসি সম্মেলন।
সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে তাঁর নিজ দপ্তর থেকে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের উদ্দেশে রওনা হন। এ সময় রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে তাঁদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে সরকারের নীতি ও দর্শন তুলে ধরতেই এই শীর্ষ নীতিনির্ধারণী সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সম্মেলনে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত আছেন— জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকেরা।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হুমায়ুন কবির জানান, এবারের সম্মেলনে ৫৬টি মন্ত্রণালয় বা বিভাগ অংশগ্রহণ করছে। চার দিনের এই কর্মসূচিতে মোট ৩৪টি অধিবেশন থাকবে, যার মধ্যে ৩০টিই হলো কার্য অধিবেশন। ৫৬টি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীগণ নিজ নিজ খাতের বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন।
মাঠ প্রশাসন থেকে এবার রেকর্ড ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব পাওয়া গেলেও স্ক্রিনিংয়ের পর ৪৯৮টি প্রস্তাব মূল কার্যপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি প্রস্তাব এসেছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ সম্পর্কিত।
সম্মেলনে জেলা প্রশাসকদের জন্য নির্ধারিত প্রধান আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে: আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি; স্থানীয় সরকার ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা; কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী; ই-গভর্নেন্স, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা; পরিবেশ সংরক্ষণ ও অবকাঠামো উন্নয়নের পরিবীক্ষণ।
আগামী চার দিন ধরে চলা এই নিবিড় আলোচনার মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম ও সুশাসন নিশ্চিত করার একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।