গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর বিষয়ে পদক্ষেপ চাইতে তাঁর স্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীরকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে নোটিশ দেওয়ার অনুরোধ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ইলিয়াস আলীর ‘হত্যাকাণ্ড’ আনপানিশড (বিচারহীন) যাবে না। এ ব্যাপারে এই সংসদ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এ-সংক্রান্ত পয়েন্ট অব অর্ডারের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন স্পিকার। এর আগে সরকারি দলের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের উদ্ধৃতি দিয়ে ইলিয়াস আলীকে ‘হত্যা করে ধলেশ্বরী নদীতে ফেলে দেওয়ার’ প্রসঙ্গ তোলেন।
পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের প্রসঙ্গ তুলে হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, ‘ইলিয়াস আলীকে বনানী থেকে তুলে নেওয়া হয় র্যাব-১ সদর দপ্তরে, লাশ ফেলা হয় ধলেশ্বরীতে। যে অপরাধ হয়েছে, এটা আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী কাজ। ইলিয়াস আলী আপনার (স্পিকারের) সহকর্মী ছিল। আমার বন্ধু ছিল। অনেক স্মৃতি জড়িত রয়েছে। আজকে যদি ইলিয়াস আলী বেঁচে থাকত, তাহলে একসঙ্গে এই সংসদে থাকতাম। যেটুকু জেনেছি, ২০১২ সালের ১৭ থেকে ২০ মার্চের মধ্যে তাকে হত্যা করে ধলেশ্বরী নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।’
হুইপ বলেন, ‘মানুষ কতটা নিষ্ঠুর হলে এই কাজ করতে পারে। আমার মনে হয়, পৃথিবীর সমস্ত ইতিহাস ফেল করবে। শেখ হাসিনা কী ধরনের অভিনেত্রী ছিলেন! তাঁর নির্দেশ ছাড়া যেমন ইলিয়াস আলী গুম হয়নি, তাঁর নির্দেশ ছাড়া তাকে হত্যাও করা হয়নি। তার স্ত্রী, এই সংসদে বসা, শিশুসন্তানকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর (শেখ হাসিনার) সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। তাদের আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন, ইলিয়াসকে খুব তাড়াতাড়ি ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করবেন।’ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর বক্তব্য শেষ হওয়ার আগেই মাইক বন্ধ হয়ে যায়।
পরে স্পিকার বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও হৃদয়বিদারক। সারা দেশের অত্যন্ত বহুল আলোচিত একটি বিষয়। ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী মাননীয় সংসদ সদস্য এখানে উপস্থিত রয়েছেন। বিষয়টি তিনি সংসদে একবার উত্থাপন করেছেন। আমি তাহসিনা রুশদীর মাননীয় সংসদ সদস্যকে অনুরোধ জানাব—এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে একটি লিখিত নোটিশ দিতে পারেন।’
স্পিকার আরও বলেন, ‘তা ছাড়া এ ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ফয়সালা করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সিমিলার কতগুলো ঘটনায় ব্যবস্থা নিচ্ছে। ইলিয়াস আলী আমাদের অত্যন্ত প্রিয় স্বজন। এই দেশের উঠতি জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। তাঁর হত্যাকাণ্ড আনপানিশড যাবে না। এ ব্যাপারে এই সংসদ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।’