ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফিরতে চাইলে তাঁকে স্বাগত জানাবেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, সরকার চায়, ন্যায়বিচারের স্বার্থে তিনি যেন আদালতের মুখোমুখি হন। আদালত যেই রায় দেবেন, সেটা যেন মান্য করা হয়।
তবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক বলে মনে করেন এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক। দেশে ফেরার আলোচনার মাধ্যমে তাঁকে কিছুটা প্রাসঙ্গিক করা হচ্ছে বলেও সন্দেহ তাঁর।
গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার ও তাঁকে নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে আদালতের নিষেধাজ্ঞার কথা সবাইকে ফের স্মরণ করিয়ে দিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন সরকারের ওপর অর্পিত দায়িত্ব। কেউ যদি মনে করেন এটা ঠিক হয়নি, তাহলে তিনি আদালতে গিয়ে বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করতে পারেন।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে পিআইডি সম্মেলনকক্ষে সরকারের চলমান কার্যক্রম নিয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে আসেন তথ্য উপদেষ্টা। সেখানে প্রশ্নোত্তর পর্বে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের প্রসঙ্গটিও আসে।
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আদালতের নিষেধাজ্ঞার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘এটা আদালতের নির্দেশনা, যা সরকার ও জনগণকে মান্য করতে হবে। আওয়ামী লীগের কেউ বা কোনো সাংবাদিক যদি মনে করেন, এতে সংবাদমাধ্যমের ওপরে সমস্যা হচ্ছে, তাহলে তাঁরা কিন্তু আদালতে গিয়ে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। আদালত যদি বলেন, এবার আমরা তুলে নিলাম, তাহলে উঠে গেল। যতক্ষণ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞাটা আছে, আমাদের কিন্তু রাষ্ট্রের আইন মেনে চলার চেষ্টা করতে হবে। তবে আমরা যেন এই ধারণাটা মনে রাখি যে—এতে আদালতের নির্দেশনা অমান্য হচ্ছে।’
আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার ফিরে আসা প্রসঙ্গে জাহেদ বলেন, ‘উনি যদি আসেন, তাঁকে স্বাগতম। আমরা জাস্টিস নিশ্চিত করতে চাই, ইনসাফ নিশ্চিত করতে চাই। তাঁর মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে যদি উনি আসেন, উনাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলা মোকাবিলা করতে হবে। এই ট্রাইব্যুনালে বিদেশি আইনজীবী আনার সুযোগ আছে, তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করুন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আইসিটি আইনকে একেবারে স্বচ্ছ করা হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এই দেশের জনগণ চায় তিনি যে অপরাধ করেছেন, যে মৃত্যুদণ্ড আছে, সেটা যেন বহাল থাকে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে, সেটাও জনগণ দেখতে চায়। আদালতে তিনি যদি প্রমাণ করতে পারেন—তিনি অপরাধী নন; আদালত যদি শেষ পর্যন্ত তাঁকে অন্য কোনো শাস্তি দেন অথবা তাঁকে খালাস দেন, সেটাও হবে। জাস্টিস এভাবেই হতে হয়।
শেখ হাসিনাকে রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘যে আমাদের রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে ফেলেছে, তাকেও আমরা জাস্টিস দিতে চাই। তিনি একেবারে অপ্রাসঙ্গিক একজন মানুষ। বিভিন্ন জায়গায় কথাবার্তা বলে উনি প্রাসঙ্গিক হওয়ার চেষ্টা করছেন। কারণ, উনার কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এই দেশে নাই। যাঁরা আওয়ামী লীগের প্রতি কিছুটা সহানুভূতিশীল, তাঁরাও মনে করেন, উনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নাই।’