২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাজধানীর গুলশান, বনানী, উত্তরা, পূর্বাচল নতুন শহর ও ঝিলমিল আবাসিক এলাকায় রাজনৈতিক বিবেচনায় মোট ১ হাজার ৪১৩টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব বরাদ্দে অনিয়ম বা বিধিবহির্ভূত কার্যক্রম হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে পূর্বাচলের ৮৭৪টি ও ঝিলমিল আবাসিক এলাকার ২০০টি প্লটের বিষয়ে অনিয়মসংক্রান্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। এসব প্লটের নথিসংক্রান্ত কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রয়েছে।
আজ রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এসব তথ্য জানানো হয়। বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া প্লটের নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন দিতে হাইকোর্ট বিভাগে করা একটি রিট পিটিশনের রুল অনুযায়ী কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি নথিপত্র যাচাই করে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিবেচনায় প্লট বরাদ্দ এবং এসব বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত ও পর্যালোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক বিবেচনায় বরাদ্দ দেওয়া ১ হাজার ৪১৩টি প্লটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৯৪৪টি পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট প্লটগুলো গুলশান, বনানী, উত্তরা ও ঝিলমিল আবাসিক এলাকায় বরাদ্দ দেওয়া হয়।
বৈঠকে সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার কবরস্থানের মূল অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং সংলগ্ন উদ্যান ও প্রাঙ্গণের অসমাপ্ত সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিচ্ছন্নতার কাজ দ্রুত শেষ করার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কবরস্থানের মূল অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের জন্য ‘এনহ্যান্সিং ক্লিন এনার্জি অ্যাকসেস থ্রু রুফটপ সোলার পিভি ইন পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ শীর্ষক প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে ৩৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্ট ভবনে ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
জাতীয় সংসদ ভবনকেন্দ্রিক গণপূর্ত অধিদপ্তরের ২০২৬ সালে সম্পন্ন করা বিভিন্ন পূর্তকাজের অগ্রগতিও বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। সংসদ ভবনের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সংসদের ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া আগামী ১৬ ডিসেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের আগারগাঁওয়ে নতুন সচিবালয়ের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
বৈঠকের শুরুতে আলোচ্যসূচি অনুযায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকের কার্যবিবরণী নিশ্চিত করা হয়। পরে প্রথম বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করে মন্ত্রণালয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, মো. লুৎফুজ্জামান বাবর, শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল, এম মঞ্জুরুল করিম রনি, মো. রুহুল আমিন, মো. তাজউদ্দীন খানসহ সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যরা অংশ নেন।