স্বাস্থ্যখাতে বিদ্যমান নানা সংকট মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এ খাতে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।
আজ রোববার (২৯ মার্চ) সকালে রাজধানীর পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত ১৭তম এশিয়া ফার্মা এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ আয়োজন করে বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যখাতে নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও সেগুলো কাটিয়ে উঠতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তবে দুর্নীতির প্রশ্নে সরকার কোনো ছাড় দেবে না।
তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পরও যদি আমরা বাস্তবায়নের বদলে শুধু পরিকল্পনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকি, তাহলে দেশের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে। মানুষের কাছে মানসম্মত ওষুধ পৌঁছে দেওয়া না গেলে উন্নয়ন টেকসই হবে না।’
িনি আরও বলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাম্প্রতিক সময়ে ১১ দিনে ৩৩ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে গণমাধ্যমের মাধ্যমে, যা পরিস্থিতির গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, এশিয়া ফার্মা এক্সপো কেবল একটি প্রদর্শনী নয়, বরং দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল খাতকে এগিয়ে নেওয়ার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম। স্বাধীনতার পর যেখানে দেশের মাত্র ২০ শতাংশ ওষুধ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হতো, বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের ওষুধ এখন ১৫৭টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে।
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল ডা. মো. শামীম হায়দার জানান, বাংলাদেশের ওষুধ বর্তমানে ১২২টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এর বিস্তৃতি ক্রমেই বাড়ছে।
বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির সভাপতি আব্দুল মুকতাদির বলেন, প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলারের ওষুধ রপ্তানির মাধ্যমে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে বৈশ্বিক বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। তবে নীতিগত সহায়তা জোরদার করা হলে এই খাত আরও এগিয়ে যাবে।
সভাপতি জানান, ইতিমধ্যে প্রায় ৩০টি কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেছে, তাই শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখতে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ভারত ও চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বাংলাদেশকে নীতিগতভাবে আরও শক্তিশালী হতে হবে। পাশাপাশি তুলনামূলক কম দামে ওষুধ সরবরাহ দেশের একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।