হোম > জাতীয়

সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়বে ১০৫ থেকে ১৪২%

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ফাইল ছবি

সরকারি কর্মচারীদের বেতন সর্বোচ্চ ১৪৩ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব রেখে নতুন বেতনকাঠামো সুপারিশ করেছে নবম জাতীয় বেতন কমিশন। কমিশন আগের মতোই সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০টি বেতন গ্রেড রেখেছে। সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

বেতন কমিশনের প্রধান জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গতকাল বুধবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়। এ সময় অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী, অর্থসচিব খায়রুজ্জামান মজুমদারসহ কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থ উপদেষ্টা জানান, বেতন কমিশনের প্রস্তাব বাস্তবায়নই এখন পরবর্তী কাজ। এ লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হবে, যে কমিটি বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করবে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা প্রতিবেদন গ্রহণ করে সন্তোষ প্রকাশ করে কমিশনের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। এ সময় তিনি বলেন, এটি একটি মস্ত বড় কাজ। মানুষ বহুদিন ধরে এর জন্য অপেক্ষা করছে। আউটলাইন দেখে বুঝলাম, এটি খুবই সৃজনশীল কাজ হয়েছে।

এ সময় জাকির আহমেদ বলেন, গত এক দশকে বৈশ্বিক ও জাতীয় পর্যায়ে অর্থনীতির প্রায় সকল সূচকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বহুগুণ বেড়েছে। সময়োপযোগী ও যথাযথ বেতন- কাঠামো নির্ধারিত না হওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সুস্পষ্ট কার্যপরিধি নির্ধারণ-পূর্বক বিদ্যমান বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে কমিশন কাজ করে।

বর্তমানে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মরত ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারী চাকরির শুরুতে মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা, বাড়িভাড়া ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা মিলিয়ে সর্বমোট বেতন-ভাতা হয় ১৬,৯৫০ টাকা। প্রস্তাবিত বেতন স্কেল অনুযায়ী ২০তম গ্রেডের উল্লিখিত কর্মচারীর মূল বেতন ২০ হাজার টাকা, ভাতা মিলিয়ে সর্বমোট বেতন দাঁড়াবে ৪১ হাজার ৯০৮ টাকা। সেই হিসাবে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে এই স্কেলে মূল বেতন বাড়বে ১৪২ দশমিক ৪২ শতাংশ।

একইভাবে ১৯তম গ্রেড থেকে ১ম গ্রেড পর্যন্ত ভাতা অনেক বাড়বে। তবে, যুক্তিসংগত বিবেচনা ও সমতা বিধানের স্বার্থে এই বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে কম হবে। কিছু কিছু ভাতা আছে, যা ১০ম বা ১১তম গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা পেয়ে থাকেন। যেমন যাতায়াত ভাতা, টিফিন ভাতা, ধোলাই ভাতা, ঝুঁকিভাতা (যার যার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য)। তা ছাড়া এই ভাতা বৃদ্ধির হারের ক্ষেত্রে, গাড়ি সেবা নগদায়ন (৫ম গ্রেড থেকে তদূর্ধ্ব) ভাতা বিবেচনায় আনা হয়নি। এ জন্য শতকরা হারে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের ভাতা বৃদ্ধির হার কম পরিলক্ষিত হবে।

প্রস্তাবিত নতুন বেতন স্কেল কার্যকর হওয়ার দিন থেকে বর্তমানে দেওয়া ১০ শতাংশ এবং ১৫ শতাংশ বিশেষ ভাতা প্রচলিত নিয়মে সমন্বয় করা যেতে পারে বলে সুপারিশে বলা হয়েছে।

কমিশন প্রধান জানান, প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে বছরে বাড়তি ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।

কমিশনের প্রতিবেদনে নতুন প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা প্রবর্তন, পেনশন ব্যবস্থার সংস্কার, সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড পুনর্গঠন, সার্ভিস কমিশন গঠন, বেতন গ্রেড ও স্কেলের যৌক্তিক পুনর্বিন্যাস, সরকারি দপ্তরসমূহে ভাতাসমূহ পর্যালোচনার জন্য কমিটি গঠন এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে মানবসম্পদ উন্নয়ন।

কোনো কর্মচারীর প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে, বেতন কমিশন সংশ্লিষ্ট মাসিক ২ হাজার টাকা ভাতা প্রদানের সুপারিশ করেছে। তবে সর্বোচ্চ দুজন সন্তান এই সুবিধা পাবে। টিফিন ভাতার বর্তমানে প্রচলিত বিধানাবলি অব্যাহত থাকলে কমিশন ভাতার হার বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বর্তমানে প্রচলিত মাসিক টিফিন ভাতা ২০০ টাকার স্থলে ১,০০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিক বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে কমিশন। আগামী ১ জুলাই থেকে এটি পুরো মাত্রায় বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে।

কোন গ্রেডে কত বেতন বাড়ছে

বর্তমান বেতনকাঠামোতে প্রথম গ্রেডে ৭৮ হাজার টাকা নির্ধারিত আছে, এই গ্রেডে নতুন প্রস্তাবে ১ লাখ ৬০ হাজার নির্ধারণের সুপারিশ করেছে কমিশন। দ্বিতীয় গ্রেডে শুরুর মূল বেতন বর্তমানে ৬৬ হাজার টাকা। সেটা বাড়িয়ে ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এভাবে তৃতীয় গ্রেডে ৫৬,৫০০ থেকে ১,১৩,০০০; চতুর্থ গ্রেডে ৫০,০০০ থেকে ১,০০,০০০; পঞ্চম গ্রেডে ৪৩,০০০ থেকে ৮৬,০০০; ষষ্ঠ গ্রেডে ৩৫,৫০০ থেকে ৭১,০০০; সপ্তম গ্রেডে ২৯,০০০ থেকে ৫৮,০০০; অষ্টম গ্রেডে ২৩,০০০ থেকে ৪৭,২০০; নবম গ্রেডে ২২,০০০ থেকে ৪৫,১০০; ১০ম গ্রেডে ১৬,০০০ থেকে ৩২,০০০; ১১তম গ্রেডে ১২,৫০০ থেকে ২৫,০০০; ১২তম গ্রেডে ১১,৩০০ থেকে ২৪,৩০০; ১৩তম গ্রেডে ১১,০০০ থেকে ২৪,০০০; ১৪তম গ্রেডে ১০,২০০ থেকে ২৩,৫০০; ১৫তম গ্রেডে ৯,৭০০ থেকে ২২,৮০০; ১৬তম গ্রেডে ৯,৩০০ থেকে ২১,৯০০; ১৭তম গ্রেডে ৯,০০০ থেকে ২১,৪০০; ১৮তম গ্রেডে ৮,৮০০ থেকে ২১,০০০; ১৯তম গ্রেডে ৮,৫০০ থেকে ২০,৫০০ এবং ২০তম গ্রেডে ৮,২৫০ থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা করার সুপারিশ করেছে কমিশন।

সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২৭ জুলাই সরকার নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার সময় দেওয়া হয়। ২০১৩ সালে গঠিত হয় অষ্টম বেতন কমিশন। ১২ বছর পর এবার নবম কমিশন গঠিত হয়।

নির্ধারিত কার্যপরিধি অনুসরণ করে সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত সুপারিশ প্রণয়নের উদ্দেশ্যে কমিশন বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে অনলাইন ও অফলাইনে ১৮৪টি সভা করে এবং ২ হাজার ৫৫২ জনের মতামত ও প্রস্তাব গ্রহণ করে। পাশাপাশি বিভিন্ন সমিতি ও অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা সভার আয়োজন করে ব্যাপক মতবিনিময় করা হয়।

প্রতীক নিয়ে মাঠে প্রার্থীরা, জমবে এবার কথার লড়াই

গুম থাকার সময়ের লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন ব্যারিস্টার আরমান

মুক্তিযোদ্ধার সন্তান না হয়েও কোটায় বিসিএস, ২১ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

জয় বাংলা ব্রিগেড: হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আরও শুনানি ৯ ফেব্রুয়ারি

সরকারি প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ৬৯ হাজারের বেশি

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ছে দ্বিগুণ থেকে আড়াই গুণ, সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা

নির্বাচন সামনে রেখে আজ থেকে পরীক্ষা শুরু, ১২ ফেব্রুয়ারি ফাইনাল: প্রধান উপদেষ্টা

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী আবুল কালাম আজাদকে আপিলের নথি সরবরাহের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের

ওসমান হাদির পরিবারকে ফ্ল্যাট কিনতে কোটি টাকা, জীবিকা নির্বাহে আরও ১ কোটি দেবে সরকার

জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান হলেন বিচারপতি ফারাহ মাহবুব