হোম > জাতীয়

দায় এড়াতে মধ্যরাতে বিজয়ীদের গেজেট জারি করেছে ইসি: বদিউল আলম মজুমদার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। ছবি: ফোকাস বাংলা

নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিজেদের দায় এড়াতে মধ্যরাতে তড়িঘড়ি করে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ীদের গেজেট জারি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সুজন আয়োজিত ‘নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যগণের হলফনামার তথ্যের বিশ্লেষণ’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজনের প্রধান সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার। আরও বক্তব্য দেন সংগঠনটির কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ, একরাম হোসেন প্রমুখ।

নির্বাচিত প্রার্থীদের অনেকেই ঋণখেলাপি উল্লেখ করে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘তাঁদের কেউ কেউ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়েছেন। অনেকে দ্বৈত নাগরিক হওয়ার পরও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দিয়ে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। আমরা নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের পক্ষ থেকে সুপারিশ করেছিলাম, যাতে নির্বাচনের ছয় মাস আগেই প্রার্থীরা ঋণ পরিশোধ করেন এবং অভ্যাসগত ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন দেওয়া না হয়। কিন্তু আরপিও অধ্যাদেশে বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়নি।’

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘এবার নির্বাচন কমিশন তড়িঘড়ি করে মধ্যরাতে গেজেট জারি করেছে। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের দায় এড়াতে চেয়েছে। আমরা নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন থেকে সুপারিশ করেছিলাম, যাতে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনটিকে সার্টিফাই করে। কিন্তু আরপিওতে আমাদের সে সুপারিশ রাখা হয়নি।’

সুজন সম্পাদক বলেন, ‘আরপিও অনুযায়ী হলফনামার সঙ্গে সর্বশেষ বছরের আয়কর বিবরণী জমা দিতে প্রার্থীরা বাধ্য। কিন্তু অনেক প্রার্থী আয়কর বিবরণী জমা দেননি। আর আয়কর বিবরণী জমা না দেওয়া মানে অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়া। আমরা আশা করি, আরপিওর বিধান মেনে নির্বাচন কমিশন হলফনামা নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্ত করে পদক্ষেপ নেবে।’

সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ বলেন, ‘এবার ১০-১২ ঋণখেলাপি এমপি নির্বাচিত হয়ে গেছেন। আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে তাঁরা বেরিয়ে গেছেন। আমরা আশা করি, নির্বাচিত সরকার আইনের এসব ফাঁকফোকর বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।’

একরাম হোসেন বলেন, ‘অতীতের মতো এবারও অধিকসংখ্যক ব্যবসায়ী নির্বাচিত হয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, সংসদ সদস্যরা তাঁদের ব্যবসায়িক স্বার্থ ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁদের দায়িত্বের মধ্যে কতটা ভারসাম্য রাখতে পারবেন। দেশে নারী ভোটারের সংখ্যা প্রায় অর্ধেক। কিন্তু মাত্র সাতজন নারী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাই ভবিষ্যতে আমাদের নারীরা আর কত পুরুষের আধিপত্য মেনে নেবেন, এই প্রশ্ন থেকে যাবে।’

মূল প্রবন্ধে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ঋণ সম্পর্কে দিলীপ কুমার সরকার বলেন, ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ১৪৭ জন ঋণগ্রহীতা (৪৯.৪৯ %)। ১৪৭ জন ঋণগ্রহীতার মধ্যে পাঁচ কোটি টাকার অধিক ঋণ গ্রহণ করেছেন ৩৬ জন (২৪.৪৮%)। ১৪৭ জন ঋণগ্রহীতার মধ্যে সর্বোচ্চ ৮৫ দশমিক ৭১ শতাংশ (১২৬ জন) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এই নির্বাচনে ঋণগ্রহীতার হার বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই হার ছিল ৪৪ দশমিক ৮১ শতাংশ।

দিলীপ কুমার সরকার আরও বলেন, ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ২৬৮ জনের (৯০.২৪%) আয়কর প্রদানের তথ্য পাওয়া গেছে। ২৬৮ জন আয়কর প্রদানকারীর মধ্যে ৩৬ জন (১৪.১৮%) কর দেন ৫ হাজার টাকা বা তার কম। আয়কর প্রদানকারীদের মধ্যে লক্ষাধিক টাকার অধিক আয়কর দেন ১৩৬ জন (৫০.৭৫%)। ১০ লাখ টাকার অধিক কর দেন ৬১ জন (২০.৫৩%)। ২৪ জন (৮.০৮%) সংসদ সদস্য শুধু প্রত্যয়নপত্র বা এনআইডির কপি জমা দিয়েছেন; আয়কর বিবরণী দেননি।

দিলীপ কুমার সরকার বলেন, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে যে, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতার বিচারে এই সংসদে উচ্চশিক্ষিতের প্রাধান্য রয়েছে। এই সংসদে আধিক্য রয়েছে ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ও পারিবারিকভাবে সম্পদশালীদের। সংসদ সদস্যদের মধ্যে ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি প্রায় অর্ধেক। আয়কর প্রদানকারী রয়েছেন নয়-দশমাংশ। এ ছাড়া উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যা বা হত্যাচেষ্টার মামলাসহ ফৌজদারি মামলা রয়েছে।

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন আরও দুজন

২৬ ফেব্রুয়ারি বসতে পারে সংসদের প্রথম অধিবেশন, সভাপতিত্ব করবেন কে

৪৪তম বিসিএস: নন-ক্যাডার পদে ৪১৩৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ

ঈদের আগেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ সেবা দিতে মন্ত্রিসভা কমিটি

দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে গণ-ইফতারে অংশ নিলেন প্রতিমন্ত্রী নুর

ঈদের আগে প্রাথমিক পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

নৌপ্রকল্প সময়মতো শেষ করতে মন্ত্রীর কড়া নির্দেশ

বাসসের এমডি মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন

ট্রাইব্যুনালের বিচার আগের গতিতেই চলবে: চিফ প্রসিকিউটর

সমঝোতায় নেওয়া অর্থ চাঁদা নয়, জোর করলে চাঁদা: সড়ক পরিবহনমন্ত্রী