বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহতের পর লাশ পোড়ানোর ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সে সঙ্গে সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও দুজনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আসামি থেকে রাজসাক্ষী হওয়া আবজালুল হককে ক্ষমা করে দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে সাবেক এমপি সাইফুল ছাড়াও রয়েছেন আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এ এফ এম সায়েদ রনি, আশুলিয়া থানার তৎকালীন এসআই আবদুল মালেক, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা, কনস্টেবল মুকুল চোকদার ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রনি ভূঁইয়া।
যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আবদুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) শাহিদুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান ও ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন ও সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস।
এ ছাড়া সাত বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে এসআই আরাফাত উদ্দিন ও এএসআই কামরুল হাসানকে। গত রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়েছিল। এর আগে গত ২০ জানুয়ারি যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শেষ হলে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।
এ মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন আটজন। তাঁরা হলেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আবদুল্লাহিল কাফী, ঢাকা জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবি পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, আবজাল হোসেন ও কনস্টেবল মুকুল। এ ছাড়া সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ আটজন এখনো পলাতক।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশ গুলি চালানোর পর ছয় তরুণকে ভ্যানে তুলে আগুন ধরিয়ে দেয়। তাতে ছয়জনের দেহ আগুনে পুড়ে যায়। তবে পোড়ানোর সময় একজনের দেহে প্রাণ ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। গত বছরের ২ জুলাই এই মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেওয়ার পর তা আমলে নিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ পলাতক থাকা আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর ২১ আগস্ট অভিযোগ গঠন করা হয়।