আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেছেন ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। আত্মসমর্পণের পর তাঁকে আপিল করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সেই সঙ্গে তিনি বর্তমানে যেভাবে আছেন, সেভাবেই থাকবেন বলে আদেশ দিয়েছেন।
আজ বুধবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ এই আদেশ দেন। এর আগে সকাল ১০টার দিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। তবে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান সে সময় উপস্থিত না থাকায় চলে যান আবুল কালাম আজাদ। বেলা আড়াইটার দিকে আবারও ট্রাইব্যুনালে হাজির হন তিনি। পরে শুনানি শেষে এই আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
আবুল কালাম আজাদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মশিউল আলম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ট্রাইব্যুনাল আবুল কালাম আজাদকে আপিল করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছেন। আর তিনি বর্তমানে যেভাবে আছেন, সেভাবেই থাকবেন বলে আদেশ দিয়েছেন। কারণ, তাঁর সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করেছেন রাষ্ট্রপতি।
১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনাল আবুল কালাম আজাদকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন ২০১৩ সালে। মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁকে প্রথম সাজা দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল।
রায়ের সময় আবুল কালাম আজাদ আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। পলাতক থাকার কারণে তাঁর অনুপস্থিতিতে বিচার হয়। তাঁর বিরুদ্ধে স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালে মোট আটটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। তিনটি অভিযোগে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড এবং চারটিতে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। প্রমাণের অভাবে একটি অভিযোগ আদালত খারিজ করে দেন।
উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে গত বছর মাওলানা আবুল কালামের সাজা স্থগিত করেন অন্তর্বর্তী সরকার।