অনিয়ম, আর্থিক দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের গুরুতর অভিযোগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তলবি নোটিশে ২৯ জানুয়ারি জাতীয় পরিচয়পত্রসহ দুদক প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে বলা হয়েছে।
দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি আজকের পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের পাঠানো তলবি নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের বিরুদ্ধে মিরপুর-গাবতলী পশুর হাট ইজারা, ই-রিকশা প্রকল্প, বোরাক টাওয়ার ও হোটেল শেরাটনের দখলভার, বনানী কাঁচাবাজারে দোকান বরাদ্দ, সিটি করপোরেশনের ভ্যান সার্ভিস, ফুটপাতের দোকান বরাদ্দসহ ডিএনসিসি স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে তাঁকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
এর আগে গত বছরের ২৭ নভেম্বর দুদকের দৈনিক ও সাম্প্রতিক অভিযোগ সেল থেকে পরিচালক ঈশিতা রনি স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ডিএনসিসির এই প্রশাসকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। পরে অভিযোগ অনুসন্ধানে গত ১ ডিসেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়। টিমের অপর সদস্য হলেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক সুবিমল চাকমা।
অনুসন্ধান শুরুর বিষয়ে দুদকের চিঠিতে বলা হয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে নানাবিধ আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণে জড়িত থাকার অভিযোগ মোহাম্মদ এজাজের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হয়েছে। সে কারণে অভিযোগ অনুসন্ধান শাখাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় কোরবানির ঈদ উপলক্ষে পশুর হাট ইজারা প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি, দরপত্র জালিয়াতি, প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপ, ইজারাদারদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং হাটের ব্যয় দেখিয়ে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরির অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
দুদকের চিঠিতে আরও বলা হয়, অভিযোগগুলো গুরুতর হওয়ায় সুনির্দিষ্ট অনুসন্ধান টিম গঠন করে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, নীতিমালা, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা ও আর্থিক লেনদেন বিস্তারিতভাবে যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ডিএনসিসির আওতাধীন বিভিন্ন খাতের অনুমোদন, ইজারা, লাইসেন্স নবায়ন ও বাজার ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে একাধিক অভিযোগ ওঠে মোহাম্মদ এজাজের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে, পশুর হাট ইজারাসংক্রান্ত বিভাগের ওপর তাঁর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ থাকায় অভিযোগগুলো আরও গুরুত্ব পায়।