দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলেছেন, আধুনিক বিমান চলাচল ব্যবস্থায় প্রযুক্তি ও অবকাঠামোর পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদই নিরাপদ ও কার্যকর অপারেশন নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
সিভিল এভিয়েশন একাডেমিতে আজ মঙ্গলবার ‘ট্রেইনিং কম্পিটেন্সি ডেভেলপমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক’ শীর্ষক সেমিনারে এই মতামত দেন বক্তারা। এতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, সিভিল এভিয়েশন একাডেমি এবং বিমান চলাচল খাতের বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণ পেশাজীবীরা অংশ নেন।
সেমিনারের সূচনা বক্তব্যে সিভিল এভিয়েশন একাডেমির ডেপুটি ডিরেক্টর (এটিএম) মো. মজিবুর রহমান মিয়াজী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বিমান চলাচল ব্যবস্থায় নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও কার্যকারিতা অনেকাংশেই নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের দক্ষতা ও সক্ষমতার ওপর। দক্ষ মানবসম্পদ ছাড়া আধুনিক বিমান চলাচল ব্যবস্থার কার্যকর পরিচালনা সম্ভব নয়।
সেমিনারে লিড প্রেজেন্টার হিসেবে বক্তব্য দেন সিভিল এভিয়েশন একাডেমির পরিচালক ও আইসিএও ইনস্ট্রাক্টর প্রশান্ত কুমার চক্রবর্তী। তিনি আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) প্রশিক্ষণ কাঠামো, গ্লোবাল এভিয়েশন ট্রেনিং কর্মসূচি এবং ট্রেইনার প্লাস প্রোগ্রামের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আইকাও গ্লোবাল এভিয়েশন ট্রেনিং কর্মসূচি বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচল খাতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনেছে। এর আওতায় পরিচালিত ট্রেইনার প্লাস প্রোগ্রামের সদস্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দক্ষতাভিত্তিক পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ কোর্স উন্নয়ন ও বাস্তবায়নের সুযোগ দেয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করে।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনায় সিভিল এভিয়েশন একাডেমি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিমান চলাচল খাতে দক্ষ জনবল তৈরি করে আসছে।
আইকাও ট্রেইনার প্লাস কর্মসূচির সদস্য হিসেবে একাডেমিটি ২০২২ সালে পুনরায় সদস্যপদ লাভ করে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে সিলভার এবং ২০২৫ সালে গোল্ড সদস্যপদ অর্জন করে, যা আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ সক্ষমতা অর্জনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।