গতকাল সোমবার কাজী মোস্তাফিজুর রহমান আহাদ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ‘ট্রাইব্যুনালে সেটলিং বাণিজ্য ও রাজসাক্ষী নাটক: কেন সরতে হচ্ছে তাজুল ইসলামকে?’ শিরোনামে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। সেখানে দুটি মন্তব্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ অভিযোগ করেন, ‘চিফ প্রসিকিউটরের চেয়ারকে টাকা আয়ের হাতিয়ার করেছিল তাজুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেট।
‘পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এবং আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) শেখ আবজালুল হককে “অ্যাপ্রুভার” (রাজসাক্ষী) করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ। রংপুরে শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা থেকে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেওয়া এবং চানখাঁরপুল এলাকায় “গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া” একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে আসামি না করে সাক্ষী করার অভিযোগ করেছেন তিনি।’
এ বিষয়ে আজ মঙ্গলবার সাংবাদিকেরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে নবনিযুক্ত চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের মামলা আমি পরিচালনা করিনি। এখনো পর্যন্ত সেটা আমি দেখিনি। সেটা দেখে যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে এবং সেখানে যদি আইনগতভাবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয় থাকে আমরা নিব। আর এটা শুধু অভিযোগ পর্যায়ে আছে। না দেখে আর কোনো উত্তর দিতে পারছি না। আমাকে একটু দেখতে দেন, আমাকে একটু কাজ করতে দেন।’
বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটরের বিষয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে, এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বারবার একই প্রশ্ন করে লাভ নেই। কারণ, আমি এখানে নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। এই ট্রাইব্যুনালের সব কার্যক্রম আমাকে বুঝতে হবে। আপনারা যেসব অভিযোগ নিয়ে আসতেছেন, সেটাও আমাকে তদন্ত করে দেখতে হবে।’
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমি সুস্পষ্টভাবে একটা কথা বলতে চাই, আমার দায়িত্ব পালনকালে এই ট্রাইব্যুনালে কোনো প্রসিকিউটর বা ট্রাইব্যুনালে জড়িত অন্য কেউ কোনো ধরনের দুর্নীতিতে জড়িত থাকলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা প্রমাণ করে দেব যে এই ট্রাইব্যুনাল সম্পূর্ণরূপে দুর্নীতিমুক্ত হিসেবে আন্তর্জাতিক মানের বিচার এখানে অনুষ্ঠিত হবে। এখানে বিচারের বাইরে অন্য কোনো আলোচনা আমরা প্রশ্রয় দেব না।’