ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও এসি ল্যান্ড কার্যালয়ে নামজারি করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ দালালদের দৌরাত্ম্য ও অতিরিক্ত অর্থ দাবির কারণে হয়রানির শিকার হচ্ছেন—সংসদে এমন অভিযোগ তুলেছেন সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. আয়নুল হক। তিনি বলেছেন, সরকার নির্ধারিত ফিতে নামজারি করার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে ১০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। অনলাইন ভূমি ব্যবস্থাপনা চালু থাকার পরও দালালদের কারণে সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ ধারায় জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশে এই অভিযোগ তোলেন তিনি।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে আয়নুল হক বলেন, দেশে জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে নামজারি একটি প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া। কিন্তু বেশির ভাগ ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও এসি ল্যান্ড কার্যালয়ে একশ্রেণির দালালের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
আয়নুল হক বলেন, অনলাইন ভূমি ব্যবস্থাপনা সহজ ও হয়রানিমুক্ত সেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে চালু করা হলেও বাস্তবে দালালদের কারণে সে সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এর পেছনে ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মচারীরও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
আয়নুল হক বলেন, অনেক জমির মালিক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে অফিসে গেলেও তাঁদের বলা হয়, ‘গজ নেই, সেই কাগজ নেই’, ফলে দিনের পর দিন ঘুরতে ঘুরতে তাঁরা শেষ পর্যন্ত দালালদের খপ্পরে পড়তে বাধ্য হন।
আয়নুল হক বলেন, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফির মাধ্যমে নামজারি করা সম্ভব হয় না। বাস্তবে প্রতিটি নামজারি করতে ১০ থেকে ২৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়।
আয়নুল হক ভূমি অফিস ও এসি ল্যান্ড কার্যালয়ে বিশেষ অভিযান চালিয়ে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
জবাবে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেন, জনবান্ধব ও হয়রানিমুক্ত ভূমিসেবা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, স্বচ্ছ, দক্ষ, আধুনিক ও টেকসই ভূমিব্যবস্থার মাধ্যমে জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে শতভাগ ডিজিটাল নামজারি, অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর, কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ও জবাবদিহি, সারপ্রাইজ ভিজিট, ভূমিসেবা হটলাইন, ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্র, ডিজিটালাইজড ভূমি রেকর্ড, ই-পর্চা এবং অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, দালালদের হস্তক্ষেপ বন্ধের লক্ষ্যে নামজারি আবেদনে অনলাইন পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আবেদনপ্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে, যেমন নোটিশ জারি, শুনানি ও অনুমোদনের তথ্য এসএমএসের মাধ্যমে আবেদনকারীকে জানানো হয়, যাতে মাঝপথে কেউ অবৈধ সুবিধা নিতে না পারে।
ভূমিমন্ত্রী আরও বলেন, ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নগদ টাকা লেনদেনের সুযোগ বন্ধ করতে অনলাইন ভূমি উন্নয়ন করব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এখন নাগরিকেরা এনআইডি ব্যবহার করে বিকাশ, নগদ, রকেট ও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সরাসরি সরকারি কোষাগারে কর জমা দিতে পারছেন।
কর্মকর্তাদের কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান ভূমিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘গত দুই মাসে আমরা ভূমি মন্ত্রণালয়কে জনবান্ধব ও দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছি।’
পরে সম্পূরক প্রশ্নে আয়নুল হক জানান, তিনি চান এসি ল্যান্ড অফিস ও ভূমি অফিসকে দুর্নীতিমুক্ত দেখতে এবং সাধারণ মানুষকে যেন দিনের পর দিন ঘুরতে না হয়।