অভিনেত্রী ঊর্মিলা শ্রাবন্তী করসহ তিন ব্যক্তির সম্পদের বিস্তারিত হিসাব চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাঁদের সম্পদ, দায়-দেনা ও আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান সংস্থাটির উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম।
আকতারুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি দুদকের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে প্রাপ্ত নথিপত্র ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে কমিশন মনে করেছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পদের উৎস যাচাই করা প্রয়োজন। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬ (১) ধারার আওতায় সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারি করা হয়েছে।
অভিনেত্রী ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর ছাড়া অপর দুই ব্যক্তি হলেন—বিজ্ঞাপনী সংস্থা গ্রে এডভার্টাইজিংয়ের সাবেক ব্যবসায়িক অংশীদার এবং বর্তমানে ট্রান্সকম গ্রুপের বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠান ‘ডট বার্থ’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ গাউসুল আলম শাওন এবং প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আলফা আই ও আলফা আই স্টুডিওর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও স্বত্বাধিকারী শাহরিয়ার করিম ভূঁইয়া, যিনি শাহরিয়ার শাকিল নামে পরিচিত।
এর আগে, গত ২৮ ডিসেম্বর দুদক প্রযোজনা সংস্থা আলফা আই প্রোডাকশনে একটি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযোগ রয়েছে, চলচ্চিত্র নির্মাণের আড়ালে প্রতিষ্ঠানটি অবৈধ অর্থ লেনদেন, হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর, আয় গোপন, কর ফাঁকি এবং অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত।
দুদক সূত্রটি জানায়, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আলফা আইয়ের অফিসে অভিযানের সময় দুদকের টিম প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় পরিদর্শন করে। এ সময় বিভিন্ন হিসাব সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই করে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে। ওই সময় অভিযোগ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
দুদক জানিয়েছে, এনফোর্সমেন্ট টিম কমিশনের কাছে সংগৃহীত নথি ও তথ্য বিশ্লেষণ শেষে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট তিনজনের সম্পদ, আয় ও দায়-দেনার হিসাব চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।