সাভারে সোমবার (৬ জুলাই) রাতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা-পরবর্তী সমাবেশস্থলে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের মন্তব্যকে ‘রাজনৈতিক বক্তব্য’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, এমন ঘটনায় সরকারের দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা। একই সঙ্গে নাহিদ ইসলামের মতো একজন রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল মন্তব্য প্রত্যাশা করেন জাহেদ উর রহমান।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘গতকালের ঘটনাটা খুবই দুঃখজনক। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই। সরকারের প্রধান কাজ হচ্ছে যারা এর সঙ্গে জড়িত সেই তদন্ত করা, তাদের ধরা। নাহিদ ইসলামের বক্তব্য সম্পর্কে আমি এটুকু বলব যে আমরা রাজনৈতিক বক্তব্য বলে একধরনের কথা প্রচলিত আছে, সেই রাজনৈতিক বক্তব্য তিনি দিয়েছেন। সেটা তাঁর অধিকারও আছে, তিনি সেটা বলতে পারেন।’
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, ‘তবে আমরা একটা রাজনৈতিক দলের প্রধানের মুখ থেকে, যিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন আমাদের গণ-অভ্যুত্থানে—আরেকটু দায়িত্বশীল মন্তব্য...(আশা করি)।’
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি—এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘সরকার তদন্ত করবে। ঘটনার তো এখনো ২৪ ঘণ্টাও যায়নি। সব সময় যে খুব দ্রুত কাজটা করে ফেলা যাবে, তা না। সরকার অবশ্যই অ্যারেস্ট করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে এবং দ্রুতই আমরা আশা করি করবে। একটা প্রসেস আছে, তদন্ত আছে, নানান রকমভাবে সেই চেষ্টা হবে। সরকার করছে না কি না, সেটা দেখার ব্যাপার আছে।’
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘একটা রাষ্ট্র বা সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করার পরও কখনো কোনো অঘটন ঘটতে পারে। সেই সরকারটা সেটাকে কগনিজেন্সে সিরিয়াসলি নিচ্ছে কি না, ব্যবস্থা নিচ্ছে কি না—সেটা জরুরি ব্যাপার। এ সরকার নিচ্ছে, আমি আপনাকে এটা কনফার্ম করতে পারছি।’
উল্লেখ্য, সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’-পরবর্তী কর্মসূচির সমাবেশ চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সাভার সরকারি কলেজ মাঠের এ ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টার দিকে সমাবেশস্থলের মঞ্চে ওঠেন এনসিপির নেতারা। এ সময় বিদ্যুৎ চলে যায়। এর মধ্যে দলের মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ অন্য নেতারা বক্তব্য দেন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হয়। এ সময় মঞ্চে দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। এর কিছুক্ষণ পরই সেখানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যা সমাবেশস্থলে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
বোমা বিস্ফোরণের জন্য প্রশাসনকে দায়ী করেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
সাভারে এনসিপির ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির মঞ্চে ককটেল বিস্ফোরণের পর সাভার মডেল থানার সামনে সাংবাদিকদের নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘স্পষ্টভাবে আজকের এই বোমা বিস্ফোরণ প্রশাসনের সহায়তায় হয়েছে। কেন বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল? স্পষ্টভাবে আমাদেরকে খুন করার পরিকল্পনায় এখানে বোমা বিস্ফোরণ করা হয়েছে।’
জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘কারা বোমা হামলা চালিয়েছে বা কীভাবে ঘটনা ঘটেছে, তা আমরা জানি না। তবে এ ঘটনার দায় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের কাছে জবাবদিহি চাইব, কেন তারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলো, কী ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল ও কীভাবে তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে বোমা হামলা করার সুযোগ পেল সন্ত্রাসীরা।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সমাবেশ শুরু হওয়ার পরপরই সেখানে বিদ্যুৎ চলে যায়। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, প্রশাসনিক সহযোগিতায় এই বোমা হামলা হয়েছে। আমরা এখন সাভার মডেল থানার সামনে অবস্থান করছি। শান্তিপূর্ণভাবে এখানেই অবস্থান কর্মসূচি পালন করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের কাছে জানতে চাইব, একটি রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিকভাবে কর্মসূচি পালনের অধিকার রয়েছে। আর সেই কর্মসূচির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশ ও প্রশাসনের দায়িত্ব।’